মাইনউদ্দিন শাহেদ
কক্সবাজার প্রায় সময় কোন না কোন লবণ বোঝাই ট্রাক এবং যাত্রীবাহী যানবাহন সড়কে আটকে যাচ্ছে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন হয়েছে সড়কটি দিয়ে চলাফেরায় দুস্কর হয়ে পড়েছে। এ দৃশ্য এখন স্থানীয়দের কাছে নিত্যদিনের ঘটনায় দাঁড়িয়েছে। এই করুণ হাল কক্সবাজার নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইড়ি) ইসলামপুর-চৌফলদণ্ডী সড়কের। এই সড়কটি দেশের অন্যতম লবণ বিপণন ও শিল্প এলাকার। গত ২১ আগষ্ট বিকাল তিনটায় ইসলামপুর শিল্প এলাকা থেকে লবণ বোঝাই করে ট্রাক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রতিমধ্যে ট্রাকটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরার আগেই উল্টে যায়। প্রায় প্রতিদিনই এভাবে লবণ বোঝাই ট্রাক ও যাত্রাবাহী যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এলজিইডি ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, আড়াই বছর আগে বটতলী স্টেশন থেকে চৌফলদন্ডী ব্রিজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কের নতুন করে কার্পেটিং(পিচ ঢালাই) কাজের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইড়ি। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। মেসার্স চকরিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। এক বছর আগে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এ প্রকল্পের অন্তত পাঁচ কিরোমিটার কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদার। কাজ ফেলে রাখার ব্যাপারে মেসার্স চকরিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মালিক ফরিদুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ইসলামপুর শিল্প এলাকায় ৭০টি লবণ মিল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪৫-৫০টি মিল সচল রয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে সারাদেশে অন্তত ১০০-১২০ ট্রাক লবণ সরবরাহ করা হয়। লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদ জানান, সড়কের কারণে লবণ সরবরাহে খরচ বেড়ে গেছে।যে ট্রাক নিয়ে চালক একবার ঢুকে সে দ্বিতীয়বার আসতে চাই না। তিনি বলেন, এ সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, যেহেতু ভারী যানবাহন চলে,তাই সড়কটি মজবুত করে তৈরি করা প্রয়োজন। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, বটতলী স্টেশন থেকে ইসলামপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির ফলে সড়কটির খানাখন্দগুলো বড় হয়ে আরও দুভোগ বেড়ে গেছে। দুই বছর ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী হারুনর রশিদ জানান,একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এভাবে ফেলে রেখে শিল্প কারখানা ও মানুষের দুভোগ বাড়িয়ে দেওয়া দু:খজনক। এখন সড়কের এক কিলোমিটার জায়গায় সড়কের চিহ্নও নেই। অবস্থা এমন হয়েছে সড়কের কারণে লবণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে জানান,‘দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে।বৃষ্টির কারণে কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে সড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা ঠিক করে নেওয়া হবে।







