কক্সবাজারের ঈদগাঁও নদীতে বিগত ৬ দিন পূর্বে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া আরমান নামের নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) পৌনে ১২টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রায় এক সপ্তাহ যাবত কক্সবাজারের ফায়ার সার্ভিস, দমকল বাহিনী ও চট্টগ্রামের ডুবুরি দলসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা অবিরাম উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও তার দেহ মৃত কিংবা জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। নিখোঁজ আরমানের পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে মৃত কিংবা জীবিত ফেরত পেতে আহাজারি অব্যাহত রাখে।
কিন্তু সকল সংস্থা যখন ব্যর্থ হয়, তখন ঈদগাঁও উপজেলার কিছু যুবক নিজস্ব উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নদীর নিখোঁজস্থল ও আশপাশ এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়। এতে স্থানীয় উদ্যমী অনেক যুবক অংশগ্রহণ করে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন প্রকারের জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে শতশত জনতার উপস্থিতিতে তার খোঁজে নামে। সময় গড়িয়ে চললেও তার খোঁজ মিলছিলনা যথারীতি। এতেও হতাশ না হয়ে অভিযান অব্যাহত রাখে।
অবশেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঈদগাঁও নদীর গজালিয়া অংশের পশ্চিমে মাছ ধরার জালে আরমানের লাশের হাদিস মিললে দীর্ঘ রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে দুই সন্তানের জনক মোহাম্মদ আরমান(২৭), পিতা -ছাবের আহমদ, সাং- মেহেরঘোনা, ঈদগাঁও প্রতিদিনের কাজ শেষে দুই সহকর্মীসহ ইসলামাবাদের গাজালিয়া শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য নদী সাঁতরিয়ে পারাপারের সময় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে সে তলিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদন তৈরি করার সময় মেহেরঘোনা ইউনুছিয়া মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান সংবাদকর্মী বজলুর রহমান।
জানাযায় ইমামতি করেন স্থানীয় আলেমেদ্বীন হাফেজ কামাল আহমদ। এতে ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সেলিম উল্লাহ সিরাজী, আবু তৈয়ব সহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী ও সংবাদকর্মী অংশ নেন। পরে তাকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মেহের ঘোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়।







