বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না তেমনি ১৯৮১ সালে যদি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল না ধরতেন তা হলে আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ হওয়া সম্ভব হতো না। বঙ্গবন্ধু, তুমিই বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনা, তুমিই আমাদের আধুনিক বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত গোল টেবিল আলোচনায় দেশের বিশিষ্টজনরা এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।
প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধায়ের সভাপত্বিতে আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামুল হক ভুইয়া, সাবেক তথ্য কমিশনার প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, ডা. উত্তম বড়ুয়া, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, অধ্যাপক বিমান বড়ুয়া, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শরীফ সাহাবউদ্দীন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহবুববুর রহমান বাবু, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় আলোয়নায় সকল বক্তারা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দীর্ঘায়ূ কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু জননেত্রী নন তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও বিশ্বনেতা হিসেবে অসামান্য গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ জাতির পিতার সাথে শেখ হাসিনার শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনার নিজের লেখা উদ্ধৃত করে অধ্যাপক হারুন তুলে ধরেন কিভাবে শেখ হাসিনা সময় নিজের পরীক্ষা ফেলে ১৯৬৬ সনের ৬ দফা আন্দোলনের ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না তেমনি ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল না ধরতেন তা হলে আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ হওয়া সম্ভব হতো না।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার স্মৃতিচারন করেন। তিনি বর্ননা করেন, ১৭ মে বেদনার সাগর পাড়ি দিয়ে লক্ষ জনতার গগণবিদারী স্লোগানের মাঝে দেশের মাটিতে পা রেখে শেখ হাসিনা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করেছিলেন, ‘আমার অবস্থা যদি আমার বাবারমতও হয় তারপরেও আমি জনগণের জন্য সংগ্রাম করে যাব সেবা করে যাব।’’
যে কথার সঠিক বাস্তবায়ন আজকের উন্নয়শীল বাংলাদেশ থেকে উন্নত বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারেক রহমান লন্ডনে একটি বক্তৃতায় বলেছেন, ৭৫ এর পরাজিত শক্তি আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
তারেক রহমানের কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেকের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেছে যে, তার পিতাই বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল ক্রিড়নক ছিলেন। তিনি জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবী করেন।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো, শামসুল হক টুটু এম.পি বক্তব্যে অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামটা শুনলেই বোঝা যায় আমাদের কি করনীয়। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক পরিবার হিসেবে অভিহিত করেন।
শেখ হাসিনাকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে জানতে হবে। জননেত্রীর মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রেরণা নিয়ে ডেপুটি স্পিকার তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় গ্রামীন খেলাধূলা ও নৌকা বাইচের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করে থাকেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা যদি দেশে না আসত তাহলে আওয়ামী লীগ হয়ত থাকতো তবে শেখ হাসিনার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো নেতা থাকত না। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদরে বচিার করা হয়ত সম্ভব হতো না।
সভাপতির বক্তব্যে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন কিভাবে তিমির হননের নেত্রী হয়ে উঠলেন তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমিই বাংলাদেশ। একই ভাবে তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তুমিই আমাদের আধুনিক বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ।







