আমিরাতে কক্সবাজারের প্রবাসীরা কেমন আছেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিগত কয়েক বছর ফিরে দেখা জরুরী।
সেখানে পাই এক মহামারী কোভিড-১৯ যা একটি আতঙ্কের নাম। পৃথিবীর কোন দেশ এর থাবা থেকে রেহাই পায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী ত্রাণ ও সাহায্য নির্ভর হয়ে পড়েছিল।
লকডাঊন, কার্ফ্যু, আইসোলেশন, ভ্যাক্সিন এই ধরণের চর্চা নিত্যদিনের সঙ্গী। আরব আমিরাতের সরকার করোনার শুরু থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন ব্যবসা বাণিজ্য যেন স্থবির হয়ে না পড়ে।
সব সময় নিশ্চিত করেছিলেন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সেবা, যেন পরিস্থিতি খারাপের দিকে না যায়। তারা সফলকাম হয়েছেন এবং করোনা মহামারী প্রতিরোধে বিশ্বের কাছে মডেল হয়ে থাকবেন।
এশিয়ার প্রতিটি দেশ যখন লকডাউনে আচ্ছন্ন তখন আরব আমিরাত সরকার কড়াকড়ি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান খুলে দেন। ফলশ্রুতিতে আফ্রিকা সহ পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যবসার জন্য আমিরাতকে বেছে নেয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রবাসী করোনার ৬ মাসের মধ্যেই কাজে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা আনুমানিক এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে লোকসান কেটে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২১ ও ২০২২ সাল প্রবাসীদের জন্য ভাল বছর হিসেবে গণ্য হবে।
অধিকাংশ ব্যবসায়ী নিজ নিজ ব্যবসা গুছাতে সক্ষম হয়েছেন। হাহাকার বিদায় দিয়ে নতুন উদ্দীপনা ফিরে পেয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবায়া বা বোরকার চাহিদা পুরো মধ্যপ্রাচ্য সহ পৃথিবীর প্রায় মুসলিম দেশে রয়েছে। এই ব্যবসাটি ৮০ শতাংশ বাংলাদেশী প্রবাসীরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। ২০২২ সালের শুরু থেকে এই ব্যবসার নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়।
উল্লেখ্য কক্সবাজার জেলার আরব আমিরাতের প্রবাসীদের অধিকাংশে এই গার্মেন্টস এর সাথে জড়িত। বিশেষ করে আবায়া (বুরকা) সেলা (উর্না) জালাবাব (মেয়েদের পোষাক) ও কম্পিউটার এম্ব্রয়ডারী ব্যবসায় কক্সবাজারের প্রবাসীরা শীর্ষস্থানে রয়েছেন।
মোদ্দাকথা হল কক্সবাজারের আমিরাত প্রবাসীরা তাদের ব্যবসার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছেন।
তবে কিছু কিছু অসাধু মানব পাচার চক্রের কারণে অনেক সাফল্য ম্লান হচ্ছে।
তারা প্রলোভন দেখিয়ে কোন চাকরির ব্যবস্থা না করে আরব আমিরাতে ভিজিট ভিসায় মানুষ এনে জড়ো করছে, তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিনানিপাত প্রবাসীদের ব্যথিত করছে।







