ঘুর্ণিঝড় হামুনের ঝড়ো হাওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন তিনদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে হামুনের তান্ডব শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বন্ধ করে দেন পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপর গত দুইদিন ধরে দিবারাত্রি সংস্কার কাজ অব্যাহত রেখেও গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাতটা পর্যন্ত সংযোগ লাইন চালু করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
হামুনের তান্ডবে শুধুমাত্র চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৮২টি খুটি ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে চকরিয়া পেকুয়ার ২৫টি ইউনিয়নে লোকজন ৩দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে। এদিকে বুধবার রাত একটার দিকে পিডিবি চকরিয়া পৌরসভার আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে সক্ষম হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে পৌরসভার আরও কিছু এলাকায় সংযোগ লাইন চালু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ চকরিয়াস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল হক।
তিনি বলেন, আমরা হামুন তাণ্ডবের পরদিন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে কাজ শুরু করেছি। গত দুইদিনে পিডিবির চকরিয়া অফিসের আওতাধীন পৌরসভা এলাকা ছাড়াও ফাসিয়াখালী, সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়ন এবং পাশের লামা উপজেলার ৮০ শতাংশ গ্রাহকের মাঝে পুনরায় বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছি।
গতকাল রাত সাড়ে সাতটায় তিনি বলেন, এখনো আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ লাইনে মেরামতে ফিল্ডে আছি।
আশাকরি বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে পিডিবির চকরিয়া অফিসের অধীন পুরো সংযোগ লাইন চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে হামুনের তান্ডব শুরু হওয়ার আগেভাগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি চকরিয়া অফিস সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। তারপরও তান্ডব শেষে দেখা যায় বেশির ভাগ এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে ও বাতসে বিদ্যুৎ এর বেসুমার খুটি ভেঙ্গে যায়। তবে, পিডিবির ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় একদিনের মধ্যে তারা চকরিয়া পৌর এলাকায় সংযোগ চালু করতে সক্ষম হলেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তা এখনো পারেনি।
পল্লী বিদ্যুত সমিতি চকরিয়া উপজেলা জোনের ডিজিএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার থেকে ৯৩জন শ্রমিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ এর খুটি পূণ:স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদারেরা।
বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য আরো ৩০জন অতিরিক্ত দক্ষ শ্রমিক বাহির থেকে এনে সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের নাজুক পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মো.হায়দার আলী। এসময় তাঁরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ লাইনের সংস্কার কাজের অগ্রগতি ও সহসা সংযোগ লাইন চালু করতে কোনধরনের জটিলতা আছে তা নির্ণয় করে দিকনির্দেশনা দেন।
জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মো হায়দার আলী দাবি করেন, সংস্কার কাজের অগ্রগতি হিসেবে বলতে পারি শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ পুরো চকরিয়া পেকুয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাজ করে যাচ্ছে।
অপরদিকে গত তিনদিন ধরে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এমনকি বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুতের অভাবজনিত কারণে বিশুদ্ধ পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।







