জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল ২৬ আগস্ট শনিবার রামুতে মিলাদ মাহফিল ও মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র নেতৃত্বে রামু জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ এই মিলাদ ও মেজবানের আয়োজক।
রামু স্টেডিয়ামে ৫০ টি গরু ও ১০০ টি ছাগল জবাই করে ৪০ হাজার মানুষের জন্যে ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ভক্তরা এই গরু, ছাগলগুলো দিয়েছেন বলে আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টায় থেকে কোরআন খতম এবং দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে মেজবান। মেজবানে মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পৃথকভাবে খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জেলার কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা থেকে আগত শোকার্ত মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মিলাদ মাহফিলের পর মেজবানে অংশ নিবেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইছালে ছওয়াবের জন্যই এ আয়োজন। জানালেন, বৃহত্তর মেজবানে উদ্যোক্তা জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।
শুক্রবার বিকালে শোক সভা ও মেজবানে বিশাল পেন্ডেল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় এমপি কমল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন জাতিগত পরিচয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পথ ধরেই তিনি স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে জেগে উঠেছিলেন।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে এই দেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সেই সময়ে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যে বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতিগত পরিচয় এনে দিয়েছেন, স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়েছেন। তাঁর নাম মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর জীবন ও কর্ম বাঙালি জাতির ইতিহাসে, আমাদের মনেপ্রাণে জীবন্ত হয়ে আছেন।
এমপি কমল বলেন, আমাদের জাতিগত পরিচয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান, জীবন, কর্ম ও দর্শনকে এ প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন ও চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই রামুতে প্রতি বছর মেজবান ও শোকসভা আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু’র মেজবান আয়োজনের সব কাজে রামু উপেজলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্তরিকভাবে সহায়তা করছেন বলে জানান, জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ, রামু উপজেলার আহ্বায়ক ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ফরিদুল আলম এবং উদযাপন পরিষদের মহাসচিব ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো।
তাঁরা জানান, শোকসভায় জাতীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
এছাড়াও মেজবান সফলতার সাথে সম্পন্ন করতে মিলাদ, অর্থ, দপ্তর, প্রচার, প্রকাশনা, মঞ্চ, সাজসজ্জা, শান্তি শৃঙ্খলা, অভ্যর্থনা, ক্রয়, রান্না, বাবুর্চি, পরিবেশনা, পরিচ্ছন্নতা সহ ২০টি উপ-পরিষদ গঠন করা হয়েছে।







