“আপনার লোকের জামিন হয়েছে, কিছু খরচ করুন, তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাবে”। একথা শুনে অনেকে টাকা খরচে দ্বিধা করেনি কখানো। মূলত বন্দী নিকটাত্মীয়-স্বজনকে মুক্ত পরিবেশে বাইরে দেখার অভিপ্রায়ে এ খরচ।
কিন্তু খরচ করে বিফল হয়েছেন- অনেকেই। কারণ যারা তাড়াতাড়ি কারাগার থেকে বের করে দেবে মর্মে সুবিধা নিয়েছে এরা প্রতারক।
এসব প্রতারকদের ঠেকাতে কক্সবাজার জেলা কারাগারেরর সামনে প্রকাশ্য স্থানে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল এলইডি বোর্ড।
সম্প্রতি এ প্রতিবেদক সরেজমিনে কক্সবাজার জেলা কারাগারে গেলে দেখা যায়- গেইটের সামনেই বিশাল এল.ই.ডি. বোর্ডে দেখা যাচ্ছে দৈনিক জামিনপ্রাপ্তদের নাম ও পিতার নাম।
আদালত থেকে জামিনের নির্দেশ কারাগারে পৌঁছা মাত্রই কম্টিউটারে সংশ্লিষ্ট জামিনপ্রাপ্তদের নাম লেখা হচ্ছে এবং এটি সাথে সাথে ভেসে উঠছে বড় পর্দায়।
দেখা গেছে ৪০/৫০ জন পুরুষ এবং নারী হুমড়ি খেয়ে এলইডি মনিটরের দিকে তাকাচ্ছেন। অনেকেই নিকটজনের নাম দেখে খুশী হয়ে অপেক্ষা করছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোঃ শাহ আলম খানের সাথে আলাপে জানা যায়- দেশের বিভিন্ন কারাগারে এ পদ্ধতি শুরু হয়েছে এবং কারাগারে ভিতরেও এ থরেণের একটি এল.ই.ডি. বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান দেখানো হয়।
মূলত নানা কারণে আসামী হয়ে নিজ পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্দী জীবন-যাপন করা লোকদের মানসিকভাবে আনন্দে রাখার জন্যই সরকারের এ প্রয়াস, যা অনেকটা উন্নতি বিশ্বের মতো।
কারাগারর বাইরে অপেক্ষারত বিভিন্ন বন্দীর আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় এখানে আসা মাত্রই কয়েকজন ব্যক্তি “সরকারী লোক” পরিচয় দিয়ে ভেতর থেকে নানা কৌশলে বন্দী বের করে দেয়ার কথা বলে মামলার গুরুত্ব বুঝে বিভিন্ন অংকের টাকা চাইতো এবং অনেকে চাহিদা মতো টাকাও দিতো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হতোনা।
এভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া উখিয়ার জনৈক ব্যক্তি নিজের নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান- তিনি একটি মামলায় ৯ মাস কারাবন্দী ছিলেন। করোনার সময় কিছু বন্দীকে বিশেষ বিবেচনায় বের করে দেয়া হচ্ছে, এরকম কথা বলে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ধরণের অহরহ নজির রয়েছে কারাবন্দীদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে।
সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে, তার আরেক আত্মীয়কে কারাগারে দেখতে আসা এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান-কারাগারের ভিতরে বিভিন্ন সময় জেল সুপার এবং জেলার কারাবন্দীদের উদ্দেশ্যে এসব প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য বন্দীদের বলে থাকেন, কিন্তু এরপরেও মোবাইল ফোনে প্রতারকরা এমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করেন, যাতে কোন অবিশ্বাস করার উপায় থাকেনা যে তিনি সত্যি সত্যি কারাগারের কারো সাথে কথা বলছেন।
প্রতারণা বন্ধের এ পাদ্ধতি বেশ প্রশংসিত হয়েছে।







