পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।
রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় এই তথ্য করা হয়।
তবে কোন মালায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টর থেকে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হককে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করায় রাতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবেক দুই আইজিপিকে গ্রেফতারের পর ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। আর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আইজিপি ছিলেন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ থেকে ৬ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত।
এরআগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) রেজাউল করিম মল্লিক বা জানিয়েছেন, সাবেক দুই আইজিপি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের এই সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আট ও শহীদুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মুদি দোকানদার আবু স্ঈাদ হত্যা মামলায় আবদুল্লাহ আল মামুনের ও রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় শহীদুলের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর পৃথক দুই হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের দশ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
অপর দিকে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আকতারুজ্জামান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরআগে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে গত ১৯ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার বছিলায় ৪০ ফিট চৌরাস্তায় মুদি দোকানদার আবু সাঈদ নিহত হন।
এই ঘটনায় ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ ও যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
গত ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় নিউমার্কেটের ১নং গেটের সামনে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর ভাগ্নে জামাই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে গত ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন,সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরী জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ প্রমুখ।







