শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ জনকল্যাণমুখী বাজেট দাবি করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি করা হয়।
বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধ, জ্বালানি তেল, গ্যাস- বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং হাম পরিস্থিতিকে বা মহামারী হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, নগর নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, জাকির হোসেন, রুখসানা আফরোজ আশা।
সমাবেশে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সরকার এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা এটাও সবথেকে বড় ঘাটতি বাজেট। ঘাটতি পূরণে দেশি বিদেশী ঋণের কথা বলা হয়েছে।
এবছর ঋণের সুদ বাবত পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা বাজেটে ব্যয়ের অন্যতম বড় খাত। ঋণনির্ভর বড় বাজেট ও সুদ পরিশোধের ব্যায়ের অন্যতম বড় খাত, এটা সরকারের বড় দুর্বলতারই প্রকাশ।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় করা যায়নি কেন তার ব্যাখ্যা ছাড়াই উচ্চাভিলাসী রাজস্ব আয়ের টার্গেট নেয়া হয়েছে। যা আদায় অসম্ভব। আই এম এফের পরামর্শে জনগনের উপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে, ধনীর স্বার্থে উৎস কর কমানো হয়েছে। এই বিশাল বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মুদ্রাস্ফীতি কমানোর আশা করা হলেও সুনির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা নেই। সামরিকসহ অনুৎপাদনশীল খাতগুলো বরাবরের মতো গুরুত্ব পেয়েছে, এদিকে শিক্ষা, সাস্থ্য, কৃষিসহ জনকল্যাণমুখী খাত অবহেলিতই রয়ে গেছে। সংবিধানে অনুপার্জিত আয় ভোগ করা যাবেনা বলা হলেও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্ত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়াল্ডকে ইজারা দেয়ার পাঁয়তারা বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ও ইউনুস সরকার করেছিল, বর্তমান সরকারও ঐ পক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের ৩ দিন আগে আমেরিকার সাথে যে অসম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা আমাদের কৃষি- ঔষধশিল্পসহ আর্থিক ও বানিজ্যিক খাত ধ্বংস এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার এই দাসত্বের চুক্তি বাতিল না করে জনমতের তোয়াক্কা না করে বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছে, এটি দেশ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত।
সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।







