কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিপূরণ আদায় ও ঘর মালিকদের পূনর্বাসন না করে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে জমির মালিকদের তোপের মুখে মঙ্গলবার ফিরে যায় মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে থাকা পুরো দল।
বুধবার আবারো উচ্ছেদ করতে গেলে পুনরায় তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের। তবে অতিদ্রুত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে জানিয়ে আপোষে কয়েকটি পরিবার উচ্ছেদ করেন তারা।
জানা যায়, আমদানি করা জ্বালানি তেল জাহাজ থেকে দ্রুত খালাস করার জন্য ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ চালানোর জায়গায় থাকা এসব ঘরবাড়ি উচ্ছেদের জন্যই এ অভিযান চালানো হয়।
বুধবার (৪ জানুয়ারী) বেলা ১১ টায় উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসপিএম প্রকল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা বাড়িঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য ঘর মালিকদের বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে অবগত করেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার গুলো এর বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ সহ পূনর্বাসনের দাবি জানান। কোন ধরণের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এবং পূনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে গত দুইদিন ধরে আনসার সদস্য, পুলিশ ও এসপিএম প্রকল্পের লোকজন সহ ইউএনও’র নেতৃত্বে বুলডোজার নিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করতে যান। তখন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা বাঁধা দেন। গত দুইদিনে আনসার সদস্যদের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন মহিলা আহত হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ‘এসপিএম প্রকল্পের রাস্তার দক্ষিণ পাশে দীর্ঘ একশো বছর ধরে ২০/২২টি পরিবারে প্রায় দেড়শো থেকে দুইশো মানুষ বসবাস করে আসছে। এই জায়গায় পাইপ লাইন নির্মাণের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ইউএনও’র নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে আসে। এই শীতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে আমরা এতগুলো মানুষ যাবো কই?
বাড়ির দুয়েকজন গৃহিণী জানান, তারা দুপুরে বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করছিলেন। ওই সময় ইউএনও’র নেতৃত্বে বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে আসে। অথচ জমিগুলো তাদের খতিয়ানভুক্ত। উচ্ছেদে বাধা দিলে ইউএনও’র নির্দেশে আনসার সদস্যরা আমাদের গায়ে লাঠিচার্জ করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে কোন ধরণের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে খালাস করার জন্য প্রায় সাড়ে ৬হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।







