কক্সবাজারের পেকুয়ায় অনাবৃষ্টির কারণে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা।
তীব্র দাবদাহে অধিকাংশ বীজতলা শুকিয়ে গেছে। পেকুয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষক জমিতে আমন ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু, বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
পেকুয়া সদর,মগনামা,উজানটিয়া,রাজাখালী,টইটং,বারবাকীয়া, শিলখালী, ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পানির অভাবে আমনের বীজতলা শুকিয়ে গেছে। তীব্র দাবদাহে অনেক জায়গায় ধানখেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
পেকুয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নে স্লুইসগেটের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় চাষাবাদ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
টইটং ইউনিয়নের হিরাবনিয়া পাড়া চাষি বহমদ ছবি বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়াতে আমনের বীজতলা শুকিয়ে গেছে। অনেকে বীজতলা তৈরিই করতে পারেনি। আমাদের এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্লুইসগেট থাকলেও তা অচল থাকায় নদী থেকে পানি এনেও চাষ করা যাচ্ছে না। এখন আমন চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
সোনাইছড়ীর এলাকার চাষি রাজামিয়া বলেন, ‘ধান চাষাবাদের ওপর আমাদের জীবিকা নির্ভর করে। চাষই যদি করতে না পারি, তাহলে চলব কিভাবে?’
টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষকদের চাষাবাদে অসুবিধা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বা পানির বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারলে কৃষকদের না খেয়ে থাকতে হবে।
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় উচু জমিগুলোতে এখনো আমনের চারা রোপণ সম্ভব হয়নি। যেগুলোতে সম্ভব
হয়েছে সেগুলোরও পানি শুকিয়ে মাটি
ফেটে যেতে শুরু করেছে।
ফসল বাচাতে তারা শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।এছাড়া দু’তিনটা ইউনিয়নে মাটি লবণাক্ততা বেশি। তাই, বৃষ্টির ওপর নির্ভর করা ছাড়া কৃষকদের তেমন বিকল্প পানির ব্যবস্থা নেই। অনাবৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বলা
হচ্ছে যে চাষিরা যেন তাদের সম্পূরক
সেচ চালিয়ে যেতে থাকেন।







