কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিখোঁজের ১৪ দিন পর অপহৃত শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফের(৪৭) মরদেহ তার নিজ বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে শিক্ষকের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানা পুলিশ জানায়, আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক শিশু পরিত্যক্ত পুকুরটিতে বড়শি ফেলতে গেলে নাকে দুর্গন্ধ লাগে। সে বিষয়টি শিক্ষকের পরিবারের লোকজনকে জানালে তাঁরা এসে লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা ছিল।
এ খবর জানাজানি হলে অপহৃত শিক্ষকের হত্যকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিক্ষুব্ধ লোকজন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করেছেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে মোহাম্মদ আরিফ অপহরণের শিকার হন। তিনি স্থানীয় পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাতবরপাড়া এলাকার বজল আহমদের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষক আরিফের পরিবারের লোকজন বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর পেকুয়া চৌমুহনী থেকে অপহৃত হওয়ার পর অপহরণকারীরা ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আরিফের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে এই মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত বুধবার পর্যন্ত অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করে পরিবারের কাছে।
শিক্ষক আরিফের ছোট ভাই রিয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘জায়গাজমির বিরোধের কারণে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাইয়েরা আমার ভাইকে অপহরণের পর গুম করে রেখে হত্যা করেছে। হত্যার পর পায়ের সঙ্গে ইট বেঁধে দিয়ে আমাদের বাড়ির আঙিনার পরিত্যক্ত পুকুরে লাশ ফেলে দিয়েছে।’







