কক্সবাজারের টেকনাফ বাহারছড়া পাহাড় থেকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ব্যক্তি সোনা আলী (৪৭) পাঁচদিন পর ঘরে ফিরেছেন।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সে ঘরে ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
সন্ত্রাসীদের দাবি করা মুক্তিপণ বাবদ ২ লাখ টাকা পরিশোধের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উল্লাহ।
সোনা আলী বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের নাজির হোসাইনের ছেলে এবং তিনি একজন পান বরজের চাষী।
বৃহস্পতিবার সকালে সোনা আলী পানবরজে কাজ করতে যান। হঠাৎ মুখোশধারী কিছু লোক অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে সোনা আলীকে নিয়ে গহিন পাহাড়ের দিকে চলে যায়।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উল্লাহ জানান, সোমবার অপহৃত সোনা আলীর ভগ্নিপতি নুরুল আমিনের মোবাইলে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। এরপর স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ফরিদ উল্লাহ বলেন, বিকেলের দিকে একজন কিশোরকে ওই টাকাসহ পাহাড়ের ভিতর পাঠানো হয়। পাহাড়ের জিরির পাশে পাথরের উপর টাকাগুলো রেখে চলে আসেন কিশোরটি। এর কিছুক্ষণ পরে সন্ত্রাসীরা সোনা আলীকে ছেড়ে দেন। যদিও এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অপহৃতের স্ত্রী সখিনা খাতুন বাদি হয়ে অঞ্জাতনামা ১৪-১৫জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফেরত আসা সোনা আলী জানিয়েছেন, ঘরের মোবাইল নম্বর জানা না থাকায় তাকে প্রচুর মারধর করেছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। পরে তারা ভগ্নিপতি নুরুল আমিনের মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে ফোন দিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। টাকার জন্য প্রচুর মারধর করা হয়েছে। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে।
ফেরত আসা সোনা আলীর স্ত্রী ছখিনা খাতুন বলেন, তাকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে। সোনা আলী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নেয়া হয়েছে।
বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান বলেন, অপহৃত ব্যক্তির স্ত্রী বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করার জন্য কয়েকটি স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আসার বিষয়ে তারা পুলিশকে কোন কিছু অবহিত করেননি। মুক্তিপণের বিষয়টি আমি নিশ্চিত নয়।







