চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে ৭৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে নির্বাচিত হলেন যুবলীগ নেতা কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ নূর মোস্তফা টিনু।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ব্যাডমিন্টন র্যাকেট প্রতীকের মো. আব্দুর রউফ পেয়েছেন ৭৭৩ ভোট।বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নগরীর শুলকবহরে অভিযান চালিয়ে বহুল আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা ওরফে টিনুকে একটি পিস্তলসহ আটক করেছিলো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিনুর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি শটগান ও ৬৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছিলো। বর্তমানে কারাগারে বসে নির্বাচনে করে জয় লাভ করেন তিনি। ২০১৮ সালে নগর পুলিশের তৈরি করা কিশোর গ্যাংয়ের ‘গডফাদার’ তালিকায় টিনুর নাম ছিল প্রথম সারিতেই।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু চকবাজার থেকে প্রথম ওয়ার্ড কমিশনার হন ১৯৭৭ সালে। এরপর ১৯৯৪ সাল থেকে পাঁচবার একই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রবীণ নেতা।
ইভিএমের মাধ্যমে ১৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু মৃত্যুর পর এ ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। যদিও অনেক কেন্দ্রে কারচুপি ও ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল আলম বলেন, চকবাজার ওয়ার্ডের নির্বাচনে ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিলো। প্রার্থীদের কোন ধরণের অভিযোগ আসেনি।
চকবাজার ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪১ জন। পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ২১৬ জন এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৮২৫ জন। ১৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৬টি ভোটকক্ষ। ভোট গ্রহণের জন্য ১৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ১৭২জন পোলিং কর্মকর্তাসহ ২৭৩ জন কর্মকর্তা কাজ করেছেন।







