কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের পুরানো সোসাইটি বায়তুল মাওয়া শাহী জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন মুসল্লি আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের সোসাইটি শাহী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা ও মারামারিতে আহত হয়েছেন মসজিদ কমিটির নতুন সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর, চকরিয়া পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন, জহিরুল ইসলাম, জয়নাল হাজারী, সাইফুল ইসলাম, কফিলউদ্দিন ও বশির আলম।
মসজিদে দুইপক্ষের হামলা পাল্টা হামলার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) রাকিব উর রাজা। তিনি বলেন, ‘চকরিয়া পৌর শহরের সোসাইটি জামে মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরিবেশ স্বাভাবিক হলে পরে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মসজিদের একাধিক মুসল্লিরা জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের সোসাইটি বায়তুল মাওয়া শাহী জামে মসজিদের খতিব হাফেজ বশির আহমদ ওয়াজ শেষ করার পরপরই বক্তব্য দিতে ওঠেন নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ।
ওই সময় তাকে বাধা দেন বিদায়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর। এতে মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন কমিটি মানি না বলে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে পড়েস। একপর্যায়ে মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আলমগীর ও সহযোগীদের মসজিদের ভেতরে পিঠুনি দেন। এ সময় মুসল্লিরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম মসজিদে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুনরায় খুতবা ও জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
মসজিদ কমিটির নতুন সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘১৯৬৫ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কমিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। কিন্তু মসজিদের সাবেক সম্পাদক আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন বখাটে যুবক পরিকল্পিতভাবে মসজিদের ভেতরে হামলা করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি জুমার নামাজের পূর্বে খতিব থেকে অনুমতি নিয়ে কমিটি ঘোষণা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় সাবেক সম্পাদক আলমগীর বাধা সৃষ্টি করলে মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে জোর প্রতিবাদ করে।’
মসজিদ কমিটির নতুন সভাপতি জাহাঙ্গীর হোছাইন বলেন, সোসাইটি শাহী জামে মসজিদে একটি নির্বাচিত কমিটি থাকার পরও সাবেক এমপির ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে তাঁরা একটি কমিটি দিয়েছিল। ওই কমিটি ৮ মাস ধরে নেতৃত্ব দিয়ে মসজিদের সহায় সম্পদ ও লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছে। শুক্রবার সাবেক সম্পাদকের নেতৃত্বে মুসল্লিদের ওপর হামলা করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কমিটির মেয়াদ আরও দীর্ঘদিন রয়েছে। এ অবস্থায় আরেকটি কমিটি ঘোষণা হচ্ছে দেখে আমি প্রতিবাদ করি। তাতে ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার ওপর হামলা করেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র স্থান। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবাই ইবাদত করি। অথচ মসজিদের ভেতরে কমিটি গঠন নিয়ে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে তাঁরা অন্যায় কাজ করেছে। কমিটি গঠন নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে পারে। আইন হাতে নেওয়া অপরাধ। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই।‘
এদিকে গতকাল জুমার নামাজের পর সোসাইটি বায়তুল মাওয়া শাহী জামে মসজিদের নতুন কমিটির সদস্যরা সাংবাদিক সম্মেলন করে মসজিদের পবিত্রতা ও সুনাম নষ্টকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
চকো/জে।







