কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ঈদগড় রেঞ্জের সুফল প্রকল্পের গ্রাম সংরক্ষণ দলের সুবিধাভোগীর ঋনের টাকা খুব শীঘ্রই উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
টেকসই বনায়ন ও সুষ্ঠু জীবিকার কল্যানে সমাজের অনগ্রসর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করছে বন বিভাগের সুফল প্রকল্প। সরাসরি বন নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে ঋণ দিয়ে সহায়তা করাই সুফল প্রকল্পের রীতিনীতি। এই ঋণের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষেরা ব্যবসা – বানিজ্য ও বিভিন্ন কৃষিকাজ করে লাভবান হন ।এতে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা যেমন পাওয়া যায়, একইভাবে এরই ফলাফল হিসেবে বনের উপর চাপও কমে আসে।
তবে এই প্রকল্পের একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে কুচক্রী মহল নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের।
জানা গেছে, সুফল প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ঈদগড় রেঞ্জের ০৭ টি গ্রাম সংরক্ষণ দলের ৫০০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে প্রতি সদস্যকে ৪২ হাজার টাকা করে ২ কোটি টাকার ঋন প্রদান কর্মসূচি গ্রহন করা হয় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঈদগড় রেঞ্জ, সদর বিট, বাইশারি বিট ও তুলাতলী বিটের অধীনে বন নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে ৭টি গ্রাম সংগঠনকে বিকল্প কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করে বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে তিন ধাপে প্রশিক্ষণ করানোর জন্য নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) নামের এক এনজিও সংস্থার সাথে চুক্তি করে বনবিভাগ।
কয়কেজন সুবিধাভোগী জানান, সুফলের আওতায় বন বিভাগ আমাদের প্রতিজনকে হাস-মুরগী ও গরু-ছাগল ক্রয়ের জন্য ৪২ হাজার টাকা করে ঋণ দিয়েছিল। এই টাকায় আমরা ভালোভাবে ব্যবসা বানিজ্য ও চাষ করে মোটামুটি কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হয়েছি। এর ফলে আমাদের আর বনমুখী হতে হয়না।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে সুফল প্রকল্পের কিছু টাকা অন্য একাউন্টে চলে গিয়েছিল। যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। টাকা গুলো নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে এই সামান্য ইস্যু কেন্দ্র করে কুচক্রী মহল নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায় বলেন, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ঈদগড় রেঞ্জের সুফল প্রকল্পের ৭টি গ্রাম সংরক্ষণ দলের কিছু সুবিধাভোগীর ঋনের টাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একটি অপপ্রচার লক্ষ্য করা গিয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার বটে। আমরা কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ উক্ত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মূলত, পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে কিছু টাকা ভুলবশত অন্য ব্যাংক একাউন্টে চলে গিয়েছিল, যা পরে আবার সংশোধন করা হয়। আমরা আগামী সপ্তাহে সুবিধাভোগীদের চেক হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি জানান, সুফল প্রকল্পের কাজ হলো টেকসই বনায়ন ও সুষ্ঠু জীবিকা উন্নয়ন। এর মাধ্যমে বন নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবার সহায়তা পেয়ে থাকেন। সুফলের আওতায় বন বিভাগ এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এককালীন কিছু টাকা ঋন দেয়, এর মাধ্যমে এসব লোকজন ব্যবসা – বানিজ্য ও চাষবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন। ফলে বনের উপর নির্ভরতা কমে আসে।







