কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মাতামুহুরী নদীতে দুই কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন জামিনপ্রাপ্ত আসামি এনামুল হক। মঙ্গলবার রাতে আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম ও আসামির আইনজীবী এডভোকেট শাহরিয়ার ফয়সালের উপস্থিতিতে মাতামুহুরী নদীর উপকণ্ঠে দাড়িয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন আসামি এনামুল।
এনামুল হক (৫০) চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মগনামাপাড়া এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এনামুল হক চকরিয়া উপজেলার বদরখালী নৌচ্যানেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বসিয়ে মাছ শিকারকালে নৌ পুলিশ কতৃক গ্রেফতার হন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা (জিআর নং ৪০/২০২৪) রুজু করে নৌ পুলিশ আসামিকে আদালতে সৌপদ্দ করেন। পরবর্তীতে আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শাহরিয়ার ফয়সাল বলেন, একদিন কারাভোগ থাকাবস্থায় গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞ আদালতে আসামি এনামুল হকের জামিন প্রার্থনা করে আবেদন জানানো হয়। মামলার শুনানি শেষে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. জাহিদ হোসাইন মামলার আসামিকে ১ কেজি রুই ও ১ কেজি কাতলা মাছের পোনা মাতামুহুরি নদীতে অবমুক্ত করার শর্তে জামিন দিয়েছেন।
আদালতের এই নির্দেশনায় মামলার আগামী ধার্য্য তারিখ ৪ এপ্রিলের মধ্যে আসামি এনামুল হককে মাছের পোনা অবমুক্ত করার জন্য বলা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত সাতটার দিকে আদালতের কোর্ট ইনস্পেক্টর ও তাঁর আইনজীবীর উপস্থিতিতে মাতামুহুরী নদীর বাটাখালী পয়েন্টের তীরে দাড়িয়ে দুই কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন করেছেন আইনজীবী শাহরিয়ার ফয়সাল।
আদালতের এই নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট লুৎফর কবির। তিনি বলেন, সাগর নদী থেকে মাছ আহরণের জন্য নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু কতিপয় জেলে শ্রেণীর লোকজন (মাছের প্রজনন মৌসুমে) সরকারি নিষেধাজ্ঞা সময়েও আহরণ কারবারে জড়িত থাকে। আবার বিভিন্ন সময়ে জেলেরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বসিয়ে মাছ শিকার করে যাচ্ছে। এই অবস্থার কারণে মাছের বংশবিস্তার ধংস হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালত কতৃক কারেন্ট জাল বসিয়ে মাছ শিকারের অপরাধের শাস্তি হিসেবে মাতামুহুরী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করার শর্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেয়ার বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এতে করে এইধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত জনগোষ্ঠীর মাঝে একটি বার্তা পৌঁছাবে। পাশাপাশি এবিয়ষে সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি হবে।
চকো/জে







