ডাকাতি বন্ধের প্রতিবাদে রামুতে ডেইরি ও প্রান্তিক খামারিদের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১২ টার দিকে রামু উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে উক্ত মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। রামু উপজেলায় বিগত কয়েকবছর ধরে একাধিক অস্ত্রধারী চোর-ডাকাত চক্র নির্বিঘ্নে গরু চুরি-ডাকাতি সংঘটিত করে আসছে।
গরু চুরি-ডাকাতির কারণে বর্তমানে অনেক গরুর খামার বন্ধ হয়ে গেছে। যারা গরু লালন-পালন করছে তাদের রাত্রি জেগে গরুর গোয়াল পাহারা দিতে হচ্ছে। এরপরও অস্ত্রধারী গরু চোর-ডাকাত চক্রের অপতৎপর বন্ধ হওয়া দূরের কথা উল্টো সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরি-ডাকাতি আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গরু চুরি-ডাকাতি চলাকালে অনেক অনেক গরুর মালিককে হত্যা এবং কুপিয়ে-মারধর করে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে। বিগত ১০ জানুয়ারি ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড অফিসের চর চরপাড়া এলাকায় কৃষক মো: আলীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ওইদিন রাতে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল গৃহকর্তা মো: আলীর ভাতিজা যুবক মীর কাশেমকে নির্মমভাবে হত্যা করে দুটি বড় সাইজের গরু লুট করে নিয়ে যায়। রামু থানা থেকে মাত্র ১কিলোমিটার দূরত্বে এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ডাকাতি প্রতিরোধে কোন ভূমিকা পালন করেনি। এমনকি ঘটনার পরও পুলিশের কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। যা গরু খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের হতাশ করেছে।
গত ২০ নভেম্বর ২০২২ ভোরে রামু উপজেলা ফতেখাঁরকূল ইউনিয়নের মধ্যম মেরংলোয়া গ্রামের মোবাশ্বের আহমেদের বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্য পরিচয় দিয়ে ৩টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। একইদিন রাতে রামু চাকমারকূল ইউনিয়নের নুর আহমেদের বাড়ি থেকে বড় সাইজের ২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়া ৮ জানুয়ারি ২০২৩ রামু উপজেলার রাজারকূল ইউনিয়ন এর সিকদার পাড়া নুরুল হকের বাড়ি থেকে অস্ত্রধারী ডাকাত দল হানা দিয়ে ৪টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। গরু গুলোকে আনুমানিক বাজার মুল্য ৪ লক্ষ টাকা।
সাম্প্রতিক সময় রামু উপজেলায় একের পর এক দুর্ধর্ষ গরু চুরি – ডাকাতির ঘটনা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধিতে জনমনে আতংকে বিরাজ করছে।
কেবল গরু চুরি নয় রামু উপজেলায় বসতবাড়ী মসজিদ মন্দির মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও চুরি-ডাকাতি, খুন, অপহরণের মত ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে বক্তারা আরো বলেন, রামু উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরি-ডাকাতির ঘটনা মহামারীর মতো আকার ধারণ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ!
গরু চুরি, ডাকাতি, মানুষ হত্যা এবং সকল প্রকার অপরাধ দমনের লক্ষে জড়িত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা ডেইরী মালিক ও প্রান্তিক খামারি সংগঠন সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আকতার কামাল, দিদারুল আলম।
এতে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম, ওমর ফারুক,কলিমুল্লাহ, আনুমিয়া, নুর নাহার, জাহানারা বেগম সহ শতাদিক খামারি।
এসময় গরু খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ বিভিন সরকারি দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করেন।







