কক্সবাজারের পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টা মিছিল সমাবেশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার রাতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা এই ঘোষণা দেন। তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, পেকুয়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান বজায় রাখার নির্মিত্তে ২৮ আগস্ট সকাল ৬টা হতে রাত ৯ টা পর্যন্ত পেকুয়া স্টেডিয়াম হতে চৌমুহনী হয়ে পেকুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সকল প্রকার রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও মিছিল আয়োজনের উপর ১৪৪ ধারা জারি করা হলো। জারিকৃত এ আদেশ সকল রাজনৈতিক দল ও সর্বসাধারণকে মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়।
এদিকে রোববার সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পেকুয়া চৌমুহুনী ও পেকুয়া আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের দোকানপাট প্রায় ছিল বন্ধ। তেমন গাড়ী চলাচল করতে লক্ষ্য করা যায়নি। সকাল থেকে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে ছিল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
পেকুয়ার প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র পেকুয়া আলহাজ্ব কবির চৌধুরী বাজার ও চৌমুহনীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা ও পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরহাদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের অবস্থান ও টহল লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দলীয় নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ডাক দেয় বিএনপি। সেই কর্মসূচি পেকুয়াতে পালনের উদ্দেশ্যে তারা গণমিছিলের ডাক দেয় কিন্তু প্রশাসন সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গভীর রাতে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা দেখিয়ে দিতাম পেকুয়ার আপামর মানুষ কিভাবে আমাদের দল বিএনপি ও প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন ভাইয়ের জন্য রাস্তায় নেমে এসে কর্মসূচি পালন করে। এই ছাড়াও তিনি ১৪৪ জারির কারণে তাদের মিছিল স্থগিত করেছেন এবং খুব শিগগিরই আবার তারা কর্মসূচিটি ব্যাপকভাবে পালন করবেন বলে জানান।
পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম বানচাল করতেই আওয়ামী লীগ অকস্মাৎ কর্মসূচি দিয়েছে। এরপরও প্রশাসন যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করেছে সেহেতু আজকের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার দিনক্ষণ ঠিক করে গণমিছিলসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে।
পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করার প্রতিবাদে রোববার সকালে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের সময় ঠিক করে। এখন ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তবে আওয়ামী লীগ প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূর্বিতা চাকমা বলেন, একই সময়ে দুই দলের পাল্টা কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনাকাঙ্কিত পরিস্থিতি এড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেকুয়া সদরের স্টেডিয়াম থেকে চৌমুহনী হয়ে পেকুয়া বাজার ও পরিষদ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ইউএনও আরো বলেন, কেউ ১৪৪ ধারা ভাঙার চেষ্টা করলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, ১৪৪ ধারা যাতে কেউ ভাঙতে না পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।







