পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় অমানবিক শিশুশ্রমে বন্দী হয়ে শিশু জীবন। পোড়ানো হচ্ছে বনের গাছ। নিয়মানুযায়ী এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করার কথা। কিন্তু লোক দেখানোর জন্য কিছু কয়লা ভাটা পাশে রাখা হলেও আড়ালে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটাগুলোতে লক্ষ করা গেছে কাঠের স্তূপ। এসব কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে পাশের বনাঞ্চল থেকে। আবার সৃষ্ট ধোঁয়ায় বৃদ্ধ ও শিশুদের দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্ট। এসব ইটভাটায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
শিশুশ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে শিশুদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন ভাটার মালিকরা। ভাটার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মজুরি বৈষম্যেরও শিকার হচ্ছে শিশুরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলেও এ ব্যাপারে তেমন কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও টৈটং ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে অন্তত ৪টি ইটভাটা। যার সবকটিই সরকারি অনুমোদন ছাড়া। আবার এসব ইটভাটায় ইট প্রস্তুত কাজে নিয়োজিত আছে অসংখ্য শিশু শ্রমিক। সরকার ঘোষিত শিশু শ্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এই আইন মানা হচ্ছে এসব ইটভাটায়।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নে নতুন ও পুরাতন মিলে গড়ে উঠেছে ৪টি ইটভাটা। এরমধ্যে টৈটং ইউনিয়নে ৩ টি ও বারবাকিয়াতে ১টি ।
প্রসঙ্গত, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩’ না মেনে পাহাড় কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে এবং ইট পোড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক বনের কাঠ কাটা হচ্ছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানী হিসেবে কোন কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না’।
এ আইন অমান্য করলে ‘অনধিক ৩ বৎসরের কারাদন্ড বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন’ মর্মে এ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে।
একই আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ আছে ‘জেলা প্রশাসকের নিকট হতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না’।
৫নং ধারায় বলা আছে, ‘কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হতে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল ব্যবহার করা যাবে না’।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা দৈনিক চকোরীকে বলেন, ইটভাটা গুলোকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্তা জানান, অবৈধ ইটভাটা এবং তাতে বনের কাঠ পুড়ানো দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ। খুব শীগ্রই আমরা অবৈধ ইটভাটা গুলোতে অভিযান পরিচালনা করার ব্যবস্থা করবো।







