কক্সবাজারের পেকুয়ায় এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের জায়গার বিরোধ নিয়ে দুইটি বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। রবিবার (৩০ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে১০টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বামুলারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানাগেছে চলতি লবন মৌসুমে এস্টেটের জমি নিয়ে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫বার রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়,বামুলার পাড়া এলাকায় ওয়াকফ এস্টেটের জমির ইজারাদারের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে লবন উৎপাদন করছে চাষীরা।
লবনচাষী বদিউল আলম বলেন, রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহদত আলী মাতবরের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে লবন চাষ করছি। আমাদের জমিতে লবনচাষে বাঁধা দিচ্ছে আনছারুল ইসলাম টিপুর লোকজন। সকালে কাজ করতে গেলে বামুলার পাড়ার আব্বাস,সহ ১০/১৫ জনের সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় উত্তেজিত জনতা আমার একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা নিজেদের একটি বাড়িতেও আগুন দেয়। কয়েকদিন ধরে টিপুর নেতৃত্বে হামলা, লবনলুট অব্যাহত রাখে।
আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম বলেন, ছেলেরা মাঠে কাজ করছিল। এ সময় বদিউল আলমের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের নারীপুরুষসহ মাঠে গিয়ে হামলা করে। বাড়িতে ঢুকে ছেলে হাসানের ঘরে আগুন জালিয়ে দেয়। আমরা টিপুর চাষা। আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে চায় শাহদত চেয়ারম্যান গং।
মেহেদী হাসান হৃদয়,সুমি আক্তার,জেয়াসমিন আক্তারসহ আরো কয়েকজন প্রাথমিকের শিক্ষার্থী বলেন, ঘর দুইটি নিজেরাই জ্বেলে দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তারা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, রাজাখালীতে রক্তঝরার পেছনে রয়েছে র্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী বামলুরপাড়া জয়নাল। ভেতর থেকে তিনি কলকাঠি নাড়ছেন। জয়নাল টিপুর অনুসারী। সকালে তিনি একটি পক্ষকে বলে মাঠে কাজ করতে।আবার অপর একটি পক্ষকে বলেছে বাঁধা দিতে। রাজাখালীতে এস্টেটের জমি নিয়ে তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে তৎপর হয়েছে।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ টহল জোরদার বাড়ানো হয়েছে।







