কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের ২ বিজিবির আওতাধীন দমদমিয়া চেকপোস্টে একটি ট্রাকে তল্লাশী চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও চালক-হেল্পারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) ২ বিজিবির আওতাধীন দমদমিয়া চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া (কুষ্টিয়া ট-১১০৪৩৮)নম্বরের খালী গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক দমদমিয়া চেক পোস্টে পৌছলে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা গাড়িটি তল্লাশী চালিয়ে চালকের সিটের নিচে চুম্বক দিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
গাড়ির চালক-হেল্পারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মোঃ মামুনুর রশিদ (২৫), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদার বিল এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (২৫), একই ইউনিয়নের মহেশখালী পাড়ার মৃত অলি আহমদের ছেলে মোঃ কাউসার (২০)।পরে জব্দকৃত মালামালসহ আসামীদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার এসআই আব্দুল বাতেন।
অতীতে এভাবে টেকনাফের ভিন্ন দুটি প্রতিষ্ঠানের খালি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী পরিবহন ও সিলিন্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান আটক করা হয়েছিলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে।
উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে অনেকে এই গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
এই ব্যবসা লাভজনক ও নিরাপদ হওয়ায় উপজেলা ও পৌরসভায় কচুর লতির মত গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ও এজেন্ট গজে উঠছে।
এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় পানের দোকানে ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।অথচ বাংলাদেশ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিস্ফোরণ অধিদপ্তরে উল্লেখ রয়েছে যে লাইসেন্সে বিহীন কোন দোকানদার বা এজেন্ট গ্যাস জাতীয় পদার্থ বিক্রি করতে পারবে না। এর জন্য নির্দিষ্ট থাকতে হবে নাতিশীতোষ্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখার গোদাম ঘর। তাও পাকা হতে হবে।
এই গ্যাস সিলিন্ডার বিপদজনক হওয়ায় এখানে থাকতে হবে ফায়ার সার্ভিস হতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র। থাকতে হবে লাইসেন্সে। এরাই বিক্রি করতে পারবে গ্যাস সিলিন্ডার।
কিন্তু টেকনাফের বিভিন্ন হাট বাজার ও পৌরসভায় সরকারি নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করে যত্রতত্রভাবে বিক্রি হচ্ছে বিপদজনক গ্যাস সিলিন্ডার।
নিয়মনীতির কোন বালাই নেই। এই সীমান্ত উপজেলা থেকে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় খালি গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে ইয়বা পাচার সহজ ও নিরাপদ হওয়ায় গ্যাসের ব্যবসা বিস্তৃত হওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।







