চকরিয়ার ডুলাহাজারায় ডাকাত আটক করতে গিয়ে সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় চকরিয়ার সর্বত্র শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার সচেতনমহল এসব ডাকাত ও দাগী সন্ত্রাসীদের আটক করে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের আটকের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) নিহতের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত ৩টার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
ভোর রাত ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন।
এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হয় এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে তিনজন ডাকাতকে আটকসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, ডাকাত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় এই তরুণ সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী এই তরুণ সেনা কর্মকর্তা পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সমাপনান্তে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, ডুলাহাজারা পূর্ব মাইজপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দিয়েছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে যায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার এক ডাকাতকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ওই ডাকাত তখন অতর্কিতে তানজিমের মাথায় ও গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত সেনা কর্মকর্তা তানজিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনীর অন্য সদস্যরা উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিহত সেনা কর্মকর্তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি চকরিয়া থানার পুলিশকে ডাকাত ধরতে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।







