আগামী ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে সারাদেশে। আর মাত্র চারদিন সময় হাতে আছে কোরবানি পশুর বেচাকেনার। এরই মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৬টি হাটে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচাকেনার ধুম। তবে বরাবরের মতো এবারও ক্রেতাসাধারণের কাছে কোরবানির জন্য দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু টেকনাফ স্থলবন্দরের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্ত পথে অবৈধভাবে অনায়াসে আসছে বার্মিজ গরুর পাল। এসব গরু ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট পেরিয়ে চলে যাচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
স্থানীয় খামারীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে বার্মিজ গরু চকরিয়া ও কক্সবাজারের কোরবানির পশুর হাটে ঢুকে পড়ছে, তাতে করে দেশীয় জাতের গরু বিক্রি করতে গিয়ে বড়ধরণের লোকসানের সম্মুখীন হবেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। কারণ দেশীয় গরুর বিপরীতে বার্মিজ গরুর দাম তুলনামূলক অনেক কম। এতে ক্রেতাসাধারণ বার্মিজ গরুর প্রতি ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
উপজেলার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, একেবারে শেষমুহুর্তে এসে বেশিরভাগ কোরবানির পশুর হাটে বেড়েছে ক্রেতা সমাগম। পাশাপাশি বেড়েছে বেচাকেনাও। এবারের কোরবানি পশুর হাটে মাঝারি সাইজের এক একটি গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ১০ বা ২০ হাজার এবং বড় সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার উপরে। গরুর পাশাপাশি এই হাটে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ভেড়া, ছাগল ও মহিষ। একেকটি বড় আকারের খাসি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
অন্যান্য বাজারের তুলনায় ইলিশিয়া বাজার, চকরিয়া পৌরসভার ঘনশ্যাম বাজার, পৌর বাসটার্মিনাল ও মগবাজার স্টেডিয়াম মাঠের পশুর হাটে এবারও সবচেয়ে বড় সাইজের গরুর দেখা মেলেছে। অধিকাংশ বাজারে স্থানীয় জাতের দেশীয়। গরুর চাহিদা বেশি বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট বাজার ইজারাদাররা। তবে গত কয়েকদিন ধরে বেশিরভাগ বাজারে ঢুকছে বার্মিজ গরুর পাল।
সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার বসে চকরিয়া পৌরসদরের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাজার ঘনশ্যামবাজার। এই বাজারটি উপজেলার প্রাচীন একটি বাজার। গত সোমবার বাজারে দেখা গেছে, কোরবানি উপলক্ষে পুরোবাজার জুড়ে ক্রেতা-গরু-ছাগল ও মহিষে একাকার। এদিন প্রচুর গরু ছাগল বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার ইজারাদার।
ঘনশ্যাম বাজার ইজারাদার পক্ষের পরিচালক রাজীফুল মোস্তফা বলেন, কোরবানি পশুর হাট ঘিরে আমরা বাজারে পশু বেচাকেনা নির্ভিগ্ন করতে সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিই। বিশেষ করে রাতের বেলায় যাতে গরু ছাগল বেচাকেনা করা যায় সেইজন্য লাইটিং এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দিয়ে বাজারে নিরাপত্তা জোরদার করি। ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে কোরবানি পশু বেচাকেনা নিয়ে দুচিন্তা মুক্ত থাকেন।
এদিকে ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বেশ জমে উঠেছে চকরিয়া পৌরসভার বাসটার্মিনাল, ঘনশ্যামবাজার, মগবাজার স্টেডিয়াম মাঠ, ইলিশিয়া বাজার, সাহারবিল পরিষদ বাজার, বদরখালী বাজার, ডুলাহাজারা স্টেশন বাজার, খুটাখালী স্টেশন বাজার, হারবাং স্টেশন বাজার, বেতুয়া বাজার, বরইতলী গরুবাজারসহ অন্তত ১৬টির বেশি কোরবানীর পশুর হাট। প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসেছে ইলিশিয়া বাজার, চকরিয়া পৌরসভার ঘনশ্যাম বাজার, মগবাজার স্টেডিয়াম ও পৌর বাসটার্মিনাল মাঠে। ইজারাদার পক্ষের লোকজন পশুর হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সর্তক করতে মাইকিং করছেন। তারা মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন, গরু মহিষ ছাগল বিক্রির টাকা বুঝে নিতে। আবার কেউ জাল টাকা দিচ্ছে কীনা সেটিও সর্তকভাবে নিশ্চিত হতে।
সোনালী ব্যাংক চকরিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো.গিযাস উদ্দিন বলেন, কোরবানি পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত করতে সকল তফসিলি ব্যাংককে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ধারাবাহিকতায় সোনালী ব্যাংক চকরিয়া শাখার ক্যাম্পিং ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার পশুর হাটে শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের পাশাপাশি অপরাপর ব্যাংকের পক্ষথেকেও পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত করণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে পশু বিক্রেতারা মোটামুটি সুফল পাচ্ছেন।
চকরিয়ার সবচেয়ে বড় পশুর হাট ইলিশিয়া গরু বাজার। রোববার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুইদিন বাজারটি বসে। এই বাজার থেকে অন্য সময়েও বিপুল পরিমাণ গরু ছাগল চট্টগ্রাম কক্সবাজার সহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে।
ইলিশিয়া গরু বাজারের পরিচালক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, আমাদের বাজারে প্রচুর গরু ছাগল ও মহিষ বিক্রি হয়। অন্য বাজারের তুলনায় আমরা কোরবানি পশু বিক্রিতে অতিরিক্ত টোল নিচ্ছিনা। প্রশাসনের নির্ধারণ করে দেওয়া অংকে প্রতিটি গরু ছাগল থেকে হাসিল (টোল) নিয়ে থাকি, সেই কারণে আমাদের বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে আনুপাতিক হারে হাসিল দিয়ে গরু ছাগল বিক্রি করতে পারে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো; ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে ১৬ টি কোরবানি পশুর হাট বসেছে। কোরবানি পশুর হাট নিলাম দিয়ে সরকার ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে।
তিনি বলেন, পশুর হাটে বেচাকেনায় যাতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় হয়রানির শিকার না হন সেই জন্য বাজার ইজারাদার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পশু বেচাকেনায় যাতে জাল টাকা লেনদেন যাতে করতে না পারে সেদিকেও সতর্ক থাকার জন্য সকল বাজার ইজারাদারকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কোরবানি বাজারে পশু বেচাকেনা নিবিগ্ন করতে থানা পুলিশের পক্ষথেকে টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে গরু ভর্তি পরিবহন চলাচল নিবিঘ্ন করতে সড়কও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চকো/জে







