মহেশখালীর গণ মানুষের নেতা আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। তিনি আমৃত্যু সংগ্রামী, গণ মানুষের অধিকার আন্দোলনে লড়াকু বীর ও নন্দিত নেতা। নিপীড়িত, শোষিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য ঘাত প্রতিঘাতে অবিচল থেকে, লড়াই সংগ্রামে, শিক্ষা ও রাজনৈতিতে গৌরব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে, তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন গত শনিবার।
সর্বজন শ্রদ্ধেয়, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহেশখালীর প্রতাপশালী জমিদার সফর আলী ভুঁইয়া তৃতীয় পুত্র আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী। তিনি বড় মহেশখালী ইউনিয়ন এর ফকিরাঘোনা এলাকায় বসবাস করতেন। নিজে উচ্চ শিক্ষিত না হলেও অপরের শিক্ষা অর্জনকে মূল্যায়ন করতেন।
মহেশখালীর এক তরুন লেখক মহেশখালীর সন্তান ওসি হেলাল উদ্দিন তাঁর স্মৃতিচারণে আনোয়ার পাশা চৌধুরীর জ্ঞান ও গুণের পরিধি তুলে ধরেন।
তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। যার কারণে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার তিনি অন্যতম আসামি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার স্বপক্ষে আন্দোলন জোরদার করায় রাজাকার আলবদরদের টার্গেটে ছিলেন তিনি। পাকিস্তান আর্মি ওনাকে ধরতে অনেকবার চেষ্টা চালায়। এমনকি তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে হানা দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেয়। তিনি তরুণ বয়স থেকেই মহেশখালী জনগণের অধিকার আন্দোলনে সব সময় অগ্রনায়ক হিসেবে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দেন।
লবণ চাষীদের ন্যায্যমূল্য আদায়ে – বাংলাদেশ লবণ চাষী সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং জাতীয়ভাবে আন্দোলন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক মহেশখালীতে কলেজ, স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি অর্জন করেন। জনগণের ম্যান্ডেটে তিনি বড় মহেশখালীর ৩ বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তার একান্ত প্রচেষ্টায় মহেশখালীতে সর্ব প্রথম বঙ্গবন্ধু সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা পায়। এছাড়া বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। এছাড়াও মহেশখালী ডিগ্রি কলেজ’সহ কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক ইউনিয়ন সহ মহেশখালীর বিভিন্ন অঞ্চলে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পেছনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মহেশখালী উপজেলার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি হয়ে পরপর ৩ বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আমৃত্যু তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন। গেলবারে মহেশখালী উপজেলা থেকে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। অসম্ভব মেধাবী, সাহসী বিচক্ষণ নেতা হিসেবে জেলাজুড়ে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছেন। সময় অসময়ে জনগনের অধিকার আদায় সংগ্রামে সব সময় সোচ্চার ভুমিকা রেখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আধিপত্যবাদী ও জোরদার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে গিয়ে সব সময় আলোচনায় স্থান করে নিয়েছেন।
শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। ব্যক্তি জীবনে কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মহেশখালী সহ জেলাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে।
এই মহান দেশপ্রেমিক বীর সন্তান এই প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তাঁকে হারিয়ে অভিভাবকহীন দ্বীপাঞ্চল আজ নিভৃতে কাঁদছে।







