দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় কক্সবাজার ১ (চকরিয়া- পেকুয়া) আসনের ভোটের মাঠ সরগরম হচ্ছে উঠেছে।
অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মুলত এখানে ভোটের লড়াই হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে।
তারা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এমপি পদপ্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক (হাতঘড়ি) ও স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতি দেওয়া সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম (ট্রাক গাড়ি)।
বর্তমানে দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থক, পরিবার সদস্যরা যে যার মতো করে ভোটের মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি প্রচারণায় কর্মী সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জনগণের কাছে ভোট চাইছেন।
এইক্ষেত্রে সৈয়দ ইবরাহিম ভোটারদের কাছে একটি বার্তা দিচ্ছেন, ৭ জানুয়ারি আপনার ভোট হাতঘড়ি মার্কায় দিন।
াবিনিময়ে সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি মুক্ত চকরিয়া পেকুয়া উপহার দেব। অন্যদিকে বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম বলছেন, অন্য প্রার্থীর বাড়ি হাটহাজারী। আমি আপনাদের ঘরের ছেলে। বিপদে আপদে আমাকে কাছে পাবেন। তাই ট্রাক গাড়িতে ভোট দিয়ে ঘরের ছেলেকে বিজয়ী করুন।
নির্বাচনী প্র্চার প্রচারণায় স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের বিপরীতে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তারপক্ষে কাজ করছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ ছাড়াও চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে জাফর আলমের পক্ষে মাঠ রয়েছেন তার অনুগত কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিবার সদস্যরা।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ (চকরিয়া পেকুয়া) আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি মনোনীত হয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি। কিন্তু ঋণখেলাপী সংক্রান্ত আইনী জটিলতার কারণে প্রার্থীতা বাতিল ঘোষিত হওয়ায় তিনি আর ভোটের মাঠে ফিরতে পারছেননা।
এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সবুজ সংকেত পেয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে কক্সবাজার ১ আসনে নৌকার বিকল্প হিসেবে হাতঘড়ি প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীককে দলীয় সমর্থন দিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী চকরিয়া মহিলা কলেজ মিলনায়তনে নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া পেকুয়া উপজেলা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সকলস্থরের নেতাকর্মীকে হাতঘড়ি প্রতীকের জন্য ভোটের মাঠে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি চকরিয়ায় এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়ে দলের সকলস্তরের নেতাকর্মীদের হাতঘড়ি মার্কার জন্য কাজ করতে আহবান জানিয়েছেন।
বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আমি আস্থা ও শ্রদ্ধাশীল। তাই আমি নির্বাচন করতে না পারলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের জন্য ভোটের মাঠে থাকবো।
ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে কক্সবাজার ১ আসনে এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ ইবরাহিমের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছেন।
মুলত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ার পর চকরিয়া পেকুয়া আসনে তৈরি হয়েছে হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে গণজাগরণ। এখন দিনদিন জনপ্রিয়তা বেড়ে চলছে এমপি পদপ্রার্থী মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের।
একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সৈয়দ ইবরাহিমকে নিয়ে ভোটাররা নতুন করে ভাবনা শুরু করে দিয়েছেন।
হাতঘড়ি মার্কার সমর্থনে ভোট চেয়ে সৈয়দ ইবরাহিম প্রতিদিন যেখানে যাচ্ছেন, পথসভা ও গণসংযোগ করছেন সেখানে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
তিনি পথসভায় চকরিয়া পেকুয়াকে সন্ত্রাস, জুলুম নির্যাতন, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে চলেছেন। নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করবেন বলে তিনি প্রত্যায় ব্যক্ত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জাফর আলমের পাশে অনুগত কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিবার সদস্যরা ছাড়া কেউ নেই। একমাস আগেও তার নিজস্ব কার্যালয়ে শতশত নেতাকর্মী জড়ো হতো। তারা এখন আর খবর রাখছেন না সাংসদ জাফর আলমের। ভোটের মাঠে স্ত্রী, পুত্র ও মেয়ে ছাড়া কাউকে পাশে পাচ্ছেন না তিনি।
জানা যায়, কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর নেতাকর্মীরা ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।
কিন্তু তার মনোনয়নটি উচ্চ আদালতে আইনী জটিলতা আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে নামতে পারেনি সালাহ উদ্দিন আহমদ। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সবুজ সংকেত পেয়ে শেষমুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যায় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের চিত্র।
গত পাঁচটি বছর বর্তমান সাংসদ জাফর আলমের নানা নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে হাজারো নেতাকর্মী নৌকা প্রতীক ফিরে পাবে এই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু হতাশা নেমে আসে সালাহউদ্দিন শিবিরে। কিন্তু সরকারের কৌশলগত কারণে এ
আসনটি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি হাত ঘড়ি প্রতিক নিয়ে এ দুই উপজেলায় চষে বেড়াচ্ছেন। সেই কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ইব্রাহিম।
গত ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে হাত ঘড়ি প্রতীক বিজয় করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য নির্দেশ দেন।
তিনি ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বদলে যায় মাঠের চিত্র। চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার ২৫ ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও সাংগঠনিক ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাত ঘড়ি প্রতীকের কাজ শুরু করেছেন।
বর্তমানে সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম তথা হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে চকরিয়া পেকুয়া আসনে ভোটের মাঠে কোমর বেঁধে কাজ করছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভার দুইবার নৌকার টিকেটে নির্বাচিত মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক প্রফেসর এ কে এম গিয়াসউদ্দিন, আমিনুর রশিদ দুলাল, মিজানুর রহমান, এসএম গিয়াস উদ্দিন, জিএম আবুল কাশেম, চকরিয়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর সভাপতি আজিমুল হক আজিম, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আবু তৈয়ব, মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী, রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব বুলেট, বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম, ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন চৌধুরী, বমুবিলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের, চিরিঙ্গা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, হারবাং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিরানুল ইসলাম ছাড়া চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে ২২ জন ইউপি চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি জাফর আলম সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলায় তাঁর নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হবার কারণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিষোদগার করে বক্তব্য দেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নির্দেশে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ জরুরি বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদবি থেকে সাংসদ জাফর আলমকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সেই থেকে নির্বাচনী মাঠে জাফর আলম শিবিরে চরম হতাশায় কাজ করছেন। দিনদিন নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন। নিজের অনুগত হিসেবে পরিচিত এমন নেতাকর্মীরাও মাঠে কাজ করছেন না। বিগত পাচটি বছর ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেনটি তিনি। একতরফা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করেছেন তিনি।
এই অবস্থায় তারপক্ষে ভোটের মাঠে গণসংযোগ করছেন সাংসদ জাফর আলমের স্ত্রী শাহেদ বেগম, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মেয়ে তানিয়া আফরিন ও পুত্র তানভির সিদ্দিকী তুহিন। তাদের পাশাপাশি অনুসারী হিসেবে পরিচিত চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্ট, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, সম্পাদক লায়ন আলমগীর, ঠিকাদার আবদুল হাকিম ট্রাক মার্কার প্রচার প্রচারণায় সরব রয়েছেন।
এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের জন্য ভোটের মাঠে কাজ করছেন সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোছাইন চৌধুরী, চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল হোছাইন চৌধুরী, পুর্ববড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না, হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মেহেরাজ উদ্দিন, ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল, শীলখালী ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শওকত।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম অভিযোগ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, সবার অংশগ্রহণ মুলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। সেই জায়গায় ‘গত কয়েক দিন ধরে আমার পক্ষে কাজ করা দলের পদধারী কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
এমনকি নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ইতোমধ্যে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
নির্বাচনে জয়ের আশাবাদী উল্লেখ করে সাংসদ জাফর আলম বলেন, আমি ৫ বছর চকরিয়া পেকুয়া জনপদে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি। মসজিদ মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে ঢেলে সাজিয়েছি। জনগণের পাশে থেকেছি।
আমি মনে করি জনগণ ঘরের ছেলে হিসেবে আমাকে ট্রাক মার্কায় ভোট দেবেন। এখানে বহিরাগত কাউকে জায়গা দেবে না।
হাতঘড়ি প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী বাংলাদেশ
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, আমি রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। দেশ মাতৃকার টানে নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে যুদ্ধ করেছি। সেই আলোকে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে নির্বাচন করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাঁধা নিষেধ নেই।
আমি মনে করেছি, চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার মানুষ গত পাঁচ বছর জুলুম নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঞ্ছিত ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
মুলত চকরিয়া পেকুয়াবাসিকে সন্ত্রাস দখলবাজি চাঁদাবাজি চুরি ডাকাতির জিন্মিদশা থেকে মুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, চকরিয়া পেকুয়া উপজেলায় হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে গনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সকলস্থরের নেতাকর্মী ভোটের মাঠে আমার পাশে রয়েছেন।
তারা দিনরাত হাতঘড়ির বিজয় নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর কাছে কৃতজ্ঞ।
মেজর জেনারেল সৈয়দ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক বলেন, সম্মানিত ভোটার ও জনগণের কাছে আমার একটি বার্তা আগামী ৭ জানুয়ারি আপনারা সবাই হাতঘড়ি মার্কায় ভোট দিন।
আমি আপনাদেরকে দখলবাজ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস জোরজুলুম চুরি ডাকাতি মুক্ত চকরিয়া পেকুয়া উপহার দেব।
আমি কোন খারাপ লোককে আশ্রয় প্রশ্রয় দেব না। এখানে সুশাসন নিশ্চিত করবো এটাই আমার ঘোষণা।
কক্সবাজার ১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩০২ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৮ টি। তৎমধ্যে চকরিয়া উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩০২ জন। পেকুয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৩ হাজার জন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ আসনে ভোটের মাঠে মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (হাতঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি জাফর আলম (ট্রাক), জাতীয় পাটির এরশাদ হোসনে আরা আরজু (লাঙ্গল), ওয়ার্কাস পাটির হাজি আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম (হাতুড়ি), ইসলামি ফ্রন্টের মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ছিদ্দিকী (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী কমেডিয়ান কমরউদ্দিন আরমান (কলারছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকী তুহিন (ঈগল)।







