দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ চকরিয়া পেকুয়া আসনে আওয়ামী লীগ তথা নৌকার মনোনয়ন পেয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি।
কিন্তু আইনী জটিলতার কারণে তিনি নির্বাচনে না থাকলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এই আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক এর হাতঘড়ি মার্কাকে সমর্থন দিয়েছেন।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে চকরিয়া মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকলস্থরের নেতাকর্মী এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে দলের সকলস্থরের নেতাকর্মীকে হাতঘড়ি মার্কার বিজয় নিশ্চিতে কাজ করার জন্য আহবান জানালেন।
তাঁর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী চকরিয়া মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার ১ আসনে এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীককে আওয়ামী লীগের সর্মথন দিয়ে তাঁর পক্ষে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক অধ্যক্ষ একেএম গিয়াস উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সরওয়ার আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রশিদ দুলাল,
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান উন্মে কুলছুম মিনু, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম বাহার, এসএম আলমগীর হোছাইন, বাবু তপন কান্তি দাশ, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ইউনুস চৌধুরী,
রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী,
চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ। এছাড়া মতবিনিময় সভায় চকরিয়া উপজেলা, পেকুয়া উপজেলা, মাতামুহুরি সাংগঠনিক থানা, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নির্বাচনে এমন একজন লোককে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন, যিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার ত্যাগী ও নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী কৃষকলীগের নেতাকর্মীদের উপর রীতিমতো নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছেন। মিথ্যা মামলায় আসামি করে হয়রানি করেছেন।
তিনি বিচারের নামে দরবার বসিয়ে সুকৌশলে দলীয় লোকজনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িভিটা, নাল জমি, চিংড়ি ঘের জবরদখলে নিয়েছেন। রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।
সালাহউদ্দিন সিআইপি বলেন, এমপি জাফর আলম বিগত পাঁচবছর সরকারি পাহাড় থেকে মাটি বিক্রি করে বাণিজ্য করেছে। মানুষের জায়গা জমি বিচারের নামে দরবার বসিয়ে দখলে নিয়ে দখল করে মার্কেট গড়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।
দলের ত্যাগী নেতাদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তাঁর এসব অপর্কমের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার তাঁকে নৌকার মনোনয়ন দেয়নি। বিপরীতে আমাকে নৌকা দেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেখানেও তাঁর জ্বালা ধরে। আমাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতেও তিনি চক্রান্ত করেছেন।
সালাহউদ্দিন সিআইপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে কথা দিয়েছেন, আমি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে অনুপ্রাণিত দেশরত্ন শেখ হাসিনার একজন কর্মী।
দলের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ১ আসনে নৌকার বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীককে সমর্থন দিয়েছেন। আমিও আজ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব এর সঙ্গে আছি।
চকরিয়া পেকুয়া থেকে সবধরনের দখলবাজি, চাঁদাবাজি, লুটপাট, গরু চুরি, নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগের সকলপর্যায়ের নেতাকর্মী সবাইকে হাতঘড়ি মার্কার জন্য কাজ করতে হবে। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে হাতঘড়ি মার্কাকে বিজয়ী করে ইনশাআল্লাহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরবে। আমি মাঠে থাকবো।







