আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এমপি পদপ্রার্থী মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে কাজ করায় কক্সবাজার ১ (চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা) আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ট্রাক গাড়ি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের লোকজন কতৃক ভোটের পরদিন দেখে নেওয়ার হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার ২৭ ডিসেম্বর বিকালে চকরিয়া শহরের ধানসিঁড়ি কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৬ জন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
এতে লিখিত বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সুরাজপুর মানিকপুর ইউপির চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম এবং চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী।
এসময় সাংবাদিক সম্মেলনে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়ার আলমগীর চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য আবু তৈয়ব, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস চৌধুরী, বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম, রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরাঙ্গজেব বুলেট, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন, বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের, ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন চৌধুরী, উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন সম্পন্ন করা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
একই সাথে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি নিরপেক্ষ অবাধ,সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এরই অংশ হিসেবে আমরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের আলোকে চকরিয়া পেকুয়া আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক তথা হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছি।
একই সাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। যা পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহায়ক।
সাংবাদিক সম্মেলনে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদি ও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নানাধরণের অঘটনের জন্ম দিতে এই আসনের বর্তমান এমপি জাফর আলম উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক গাড়ী প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এখন তার পক্ষে কাজ না করায় এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করায় জাফর আলম নিজে এবং তাঁর নিজস্ব অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী দ্বারা অবৈধ অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সুরাজপুর মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে বিজয়ী না হলে ভোটের পরদিন বিপক্ষে থাকা জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে দেখে নেয়ার হুমকিও দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর অস্ত্রধারী লোকজন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করে বলেন, ইতোমধ্যে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমান এমপি জাফর আলমের উশৃংখল কর্মী বাহিনী দ্বারা মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের হাত ঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনী পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট ও পেষ্টুন ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।
এমনকি ব্যানার, পোষ্টার, পেস্টুন লাগাতেও বাধা প্রদান করা হচ্ছে। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন।
আমরা এ ধরনের হুমকি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা প্রদানের মত অপতৎপরতা একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। এই অবস্থায় আমরা জনপ্রতিনিধিরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছি।
এমন ভীতিকর পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনের সংশয় দূর করতে কক্সবাজার-১ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বিধান ও হয়রানিরোধে উল্লেখিত অভিযোগ যাচাই স্বাপেক্ষে পরবর্তী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রতিনিধিরা।







