চলতি বছরের আগস্ট মাসে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় টানা সাতদিনের বেশিসময় নিমজ্জিত ছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। এরপর ওইসময় জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টির আলোকে কাকারা ইউনিয়নের জনগণের অংশ গ্রহণে গণশুনানিও করেন।
পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেএলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পানিবন্দি অবস্থার সঠিক কারণ উদঘাটনে দেখতে পান কাকারা ইউনিয়নের বুকচিড়ে প্রবাহিত হওয়া শতবছরের পুরানো বাইশশারছড়া ছড়াখাল পলি জমে ভরাট হয়ে পড়ার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। ছড়াখালের মোহনা ও গতিপথ বিভিন্নভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্যার সময় সহজে পানি নীচের দিকে নামতে পারেনি।
এতে টানা সাতদিনের বেশিসময় পানিতে নিমজ্জিত থেকে কাকারা ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে ছিলেন।
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন বলেন, বাইশশারছড়া ছড়াখালটি খননের বদৌলতে কাকারা ইউনিয়নের ১,২,৩, ৪,৫,৯ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট ছয়টি ওয়ার্ডে সারাবছর জলাবদ্ধ থাকা অন্তত ৫ হাজার হেক্টর (১২ হাজার পাঁচশত একর) অনাবাদি জমি এবছর থেকে চাষাবাদের আওতায় আসবে।
এছাড়া খনন কর্মসুচির ফলে ছড়াখালের গতিপথ পরিস্কার হওয়ায় পানি চলাচলে বাঁধা দুর হবার মধ্যদিয়ে কাকারা ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের নীচু এলাকায় বসবাসরত অন্তত ৪৫ হাজার মানুষ বন্যার পানিবন্দি অবস্থা থেকে নিস্তার পেতে যাচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নাছিম হোসেন বলেন, কাকারা ইউনিয়নের বাইশশারছড়া ছড়াখাল পলি জমে ভরাট হয়ে পড়ার কারণে এতদিন পানি নিষ্কাসন নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের চরম বেগপেতে হয়েছে। আশাকরি ছড়াখালটি খননের ফলে পানি নিষ্কাসন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এবছর থেকে ওই এলাকার কৃষকদের নিরবিচ্ছিন্ন চাষাবাদ নিয়ে দুঃচিন্তা কেটে যাবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, গত আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যার সময় কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে নিমজ্জিত ছিল। আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে পানিবন্দি অবস্থার কারণ উদঘাটন করি। এরপর বিষয়টির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম ও জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হলে গতমাস থেকে কাকারা ইউনিয়নের বাইশশারছড়া ছড়াখাল খনন ও মাতামুহুরী নদীর তীরে টেকসই গাইডওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। আশাকরি ছড়াখাল খনন কাজ সমাপ্ত হলে কাকারা ইউনিয়নের মানুষ আগামীতে পানিবন্দি দুর্ভোগ দু:দশা থেকে স্থায়ীভাবে নিস্তার পাবে।







