কক্সবাজারের চকরিয়ায় গভীর রাতে উপজেলার একমাত্র নারী ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্নার বাড়িতে হামলা তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়েছে অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা। শনিবার ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে উপজেলার পুর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্নার স্বামীর পুরানো বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ঢুকে এ হামলা তাণ্ডব চালায় বলে দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান নিজে।
তবে ওইসময় বাড়িতে ছিলেন না ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না সহ পরিবার সদস্যরা।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না বলেন,গতকাল শনিবার ভোর রাত আনুমানিক তিনটা থেকে চারটার মধ্যে একটি সাদা মাইক্রোবাস যোগে এসে ১০-১২ জনের একটি দুষ্কৃতকারী দল অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে।
এরপর তাঁরা বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্মী ও স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে আমার অবস্থান জানতে চান। এসময় প্রত্যেক দুষ্কৃতকারীর হাতে অবৈধ অস্ত্র, মুখে মাস্ক এবং মাথায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ছিল।
ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না বলেন, আগেরদিন ব্যক্তিগত কাজে স্বপরিবারে কক্সবাজারে যাই এবং সেখানে ছিলাম। কক্সবাজারে থাকায় নিশ্চিত আমি তাদের হত্যার মিশন থেকে বেঁচে যাই।
মুলত আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তরা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র সহকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (RAB) পরিচয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি ও লুটপাট চালায়। এমনকি অস্ত্রধারীরা চলে যাবার সময় আমার বাড়িতে অবস্থানতদের কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে এবং আমার ব্যক্তিগত রুমের লকার ভেঙে কিছু নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নিয়ে যায়।
পুর্ব বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়িতে হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা। সামান্য কিছু মালপত্র ডাকাতি করায় আমার কাছে সন্দেহ হচ্ছে এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
এখানে আমার কাছে সন্দেহ হচ্ছে দুইটি ঘটনা নিয়ে। একটি হচ্ছে আমার প্রয়াত স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন নোবেল হত্যাকাণ্ড পরবর্তী মামলার অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছি, অন্যটি হচ্ছে কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালত চলাকালে আমার উপর হামলার ঘটনাটি।
দুইটি ঘটনার প্রেক্ষিত বিবেচনা করে তদন্ত পুর্বক আমার বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এব্যাপারে থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না।
এব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্নার বাড়িতে হামলা তাণ্ডবের ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান এখন (গতকাল রাত সাড়ে আটটা) থানায় এসেছেন। তিনি লিখিত এজাহার জমা দিলে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







