বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেষে মহেশখালীর মাতারবাড়ি। এ ইউনিয়নের ১৪১৪ একর এলাকাজুড়ে চলছে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ। গভীর সমুদ্র বন্দর কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ জোরে শোরে এগিয়ে চলছে । ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশী বিদেশি সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিকের ঘাম-শ্রমে প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ও জুলাইয়ে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যাবে। অপরদিকে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর। গভীর সমুদ্রবন্দরের ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার লম্বা চ্যানেল তৈরির ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখনই চ্যানেলের গভীরতা ১৬ মিটার। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে এ বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে দুই মেগা প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘুরে দেখেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছেন। এরপর গভীর সমুদ্র বন্দর ও কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
প্রায় তিন ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দরসহ অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক নিরাপত্তা নিয়ে নানা সুবিধা অসুবিধার বিষয়টি জেনেছি। প্রকল্পের সবকিছু যেন নিরাপদ থাকে সে বিষয়ে আমাদের আলাদা নজর রয়েছে। পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে কি কি করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ এলাকাটা সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে আমরা সচেষ্ট আছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশেই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে। তার মধ্যে মহেশখালীতে এনার্জি হাব, গভীর সমুদ্র বন্দরসহ চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের পুরো চেহারাটাই পাল্টে যাবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী পরিষদের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজির আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শাফিনুল ইসলাম, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষেরর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহজাহান, কোস্টগার্ডের উপপরিচালক কমোডর এনামুল হক, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ) মো. মনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান, পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান এবিএম আবদুল ফাত্তাহ, চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের এডমিন এন্ড প্ল্যানিং এর সদস্য ও যুগ্ম-সচিব জাফর আলম, অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ) জাহাঙ্গীর আলম, কক্সাবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজর রহমান।







