আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া লাগামহীন টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারে কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির আবেদন ও চকরিয় উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বন্যার তাণ্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড চকরিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী (এসও) জামাল মোর্শেদ।
তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বেশকটি ইউনিয়নে পানির প্রবল চাপে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার ও মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ চেয়ে পাউবোর উর্ধবতন বিভাগে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থবরাদ্দ নিশ্চায়নের আলোকে আমরা ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল, বিএমচর ও কোনাখালী ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছি। এসব এলাকায় আপাদত ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার বালু ভর্তি বস্তা নদীতে ডাম্পিং করার মাধ্যমে নদী ভাঙনের কবল থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিতের উদোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএমচর ইউনিয়নের কন্যারকুম এলাকায় ভাঙনরোধে নদীর তীরে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে।
কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত কোনাখালী কাইজ্যারদ্বিয়া, সিকদারপাড়া এলাকায় পাউবোর জরুরি প্রকল্পের আওতায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন চলছে বালুর বস্তা প্যাকেটিং করার কাজ। এরপর এসব বালুর বস্তা নদীর তীরে ভাঙন অংশে ডাম্পিং করা হবে।
সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবী হোছাইন চৌধুরী বলেন, বন্যা পরবর্তী মাতামুহুরী নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে সাহারবিল ইউনিয়নে অতিদ্রুত সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার মাতামুহুরী নদীর তীর লাগোয়া রামপুর সাহাপুরা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছি।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা এখন বালু ভর্তি বস্তা তৈরি করছেন। শেষ হলে বালুর বস্তা নদীতে ডাম্পিং করা হবে। আশাকরি এই কাজের মাধ্যমে সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর সাহাপুরা এলাকা নদী ভাঙনের কবল থেকে সুরক্ষা পাবে। এতে বন্যার তাণ্ডবে বড়ধরণের বির্পযয় থেকে পরিত্রাণ পাবে এলাকার জনসাধারণ।







