চকরিয়া থানার বিবর্তনের ইতিহাস সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট হবার পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে চকরিয়া-কুতুবদিয়া আসনের ১ম এমপি ডাঃ শামসুদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া কলেজের ১ম অধ্যক্ষ আকম গিয়াস উদ্দিনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের অন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাঁদের মধ্যে অনেকে আরো তথ্যসহ জানতে চেয়েছেন, ১৯৪৭ সালের পরবর্তী এই থানার ৬ ইউনিয়নের আওতা বা বিস্তৃতি এবং ইউনিয়ন প্রধানদের পদবী ও নাম। চকরিয়া থানার আয়তন প্রায় ২৩৩ বর্গমাইল। সিঙ্গাপুর দেশের আয়তন মাত্র ২২৬ বর্গমাইল। এই দেশের চেয়ে ৭ বর্গমাইল বড় আয়তনের চকরিয়া থানা, যা কক্সবাজার জেলার এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি, এর ৬ ইউনিয়নের বিস্তৃতি হলো-
চিরিঙ্গা ইউনিয়ন- চকরিয়া পৌরসভা, চিরিঙ্গা, ফাসিয়াখালি, ডুলাহাজারা, ও খুটাখালি।
বদরখালি ইউনিয়ন- বদরখালি, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালি ও সাহারবিল।
পেকুয়া ইউনিয়ন- পেকুয়া, উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালি।
বারবাকিয়া ইউনিয়ন- বারবাকিয়া, টৈটং, শীলখালি
হারবাং ইউনিয়ন- হারবাং ও বরইতলি
কাকারা ইউনিয়ন- কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর ও বমু বিলছড়ি।
তখনকার দিনে জনগন এ, বি ও সি শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল। হতদরিদ্ররা ছিল ‘এ’ শ্রেণী ভুক্ত। তাদের কোন ভোটাধিকার ছিলনা। ভোটারদের হাত তোলাতুলিতেই ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচন হত। ইউনিয়ন বোর্ড প্রধানদের পদবী ছিল প্রেসিডেন্ট। এই ৬ ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন,
চিরিঙ্গা ইউনিয়ন- ইলিশিয়ার মুখতার আহমদ চৌধুরী
বদরখালি ইউনিয়ন-তাঁরই ছোট ভাই মকসুদ আহমদ চৌধুরী
পেকুয়া ইউনিয়ন- কবীর আহমদ চৌধুরী, কবীর মিয়া
বারবাকিয়া ইউনিয়ন- সৈয়দুর রহমান ওয়ারেসী, সৈয়দ মিয়া
হারবাং ইউনিয়ন- এহতেশাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী
কাকারা ইউনিয়ন- মুস্তাক আহমদ চৌধুরী
দেশ বিভাগের ১০ বছর পর ১৯৫৭ সালে চকরিয়া থানার ৬ ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে ১২ ইউনিয়ন হয়। শ্রেণীভেদ বিলুপ্ত হয়ে ১৮ বছর থেকে জনগন ভোটার হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের আমলে মৌলিক গনতন্ত্রের নামে প্রত্যেক ইউনিয়ন ৭ থেকে ৯ ব্লকে বিভক্ত হয়ে শীল-ছাপ ছাড়া ১৯৫৯ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বোর্ড প্রধানদের পদবী প্রেসিডেন্টের স্থলে চেয়ারম্যান হয়। মেম্বারের মধ্য হতে তাদেরই ভোটে একজন চেয়ারম্যান হতেন। প্রেসিডেন্ট ও সমস্থ জাতীয় নির্বাচন এই ব্লক মেম্বারদের ভোটেই অনুষ্ঠিত হত। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পর ইউনিয়ন বোর্ড ইউনিয়ন পরিষদ হয়।
১৯৫৭ সালে বিভক্ত ১২ ইউনিয়ন ছিল – চিরিঙ্গা, ফাসিয়াখালি, ডুলাহাজারা, বদরখালি, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর, পেকুয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, হারবাং, কাকারা ও লক্ষ্যারচর। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই ১২ ইউনিয়নে নিযুক্ত পঞ্চায়েত চেয়ারম্যানেরা হলেন, যথাক্রমে- এস কে শামসুল হুদা, এম কলিম উল্লাহ, মফজল আহমদ সওদাগর, জুবাইর আহমদ বিএসসি, এম শামসুল হুদা বিএসসি (আমি), আবুল হাশেম বিএসসি, নুরুল আজিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএ, আখতার কামাল, সাবের আহমদ, সিরাজ উদ্দিন, ও হাজী আবু তাহের।
চকরিয়া থানা আজ ১ পৌরসভা ও ২৫ ইউনিয়নে বিভক্ত আছে।
লেখক- শামসুল হুদা বিএসসি
মোবাইল-০১৮১৮৩২২৪৮৯







