প্রথম ধাপে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিশ্বস্ততা অর্জন, পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে হঠাৎ জিম্মি! এরপর তৃতীয় ধাপে নাফনদী সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার সমুদ্রবর্তী শামিলা নামক নির্জন স্থানে।
একসময় রোহিঙ্গা মানবপাচারের ট্রানজিট খ্যাত শামিলা এখন পরিণত হয়েছে নতুন আলোচনায় আসা আন্তর্জাতিক অপহরণ চক্রের কেন্দ্রে।
উঠতি বয়সী রোহিঙ্গা অথবা স্থানীয় কিশোর ও কর্মহীন যুবকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায় দুর্বৃত্তরা। হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জিম্মি থাকা ব্যক্তির পরিবারের কাছে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। বাংলাদেশে থাকা চক্রের সদস্যের মাধ্যমে চলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মুক্তিপণের লেনদেন। টাকা না পেলে থাকে জিম্মির প্রাণহানির ঘটার সম্ভাবনাও।
চলতি মাসেই অভিনব এই বহুজাতিক অপরাধী চক্রটির সক্রিয় ১২ সদস্যকে আইনের আওতায় এনেছে ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা নিয়োজিত ৮ এপিবিএন।
সর্বশেষ ২০ জুলাই ৪০ ঘন্টার অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক রোহিঙ্গা যুবক কে মিয়ানমার থেকে কৌশলে ফেরত আনা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, চক্রটির আটককৃতদের সাথে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন
আরকান সালভেশন আর্মি আরসা’র সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কে ঘিরে বিভিন্ন সময় অপতৎপরতা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিজেদের তহবিল বাড়াতে অপরাধের এই নতুন পন্থা অবলম্বন করতে পারে বলে জানান একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ফারুক আহমেদ।
আধিপত্য বিস্তারে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠা আরসা, আরএসও,নবী হোসেন গ্রুপ, ইসলামি মাহাজ সহ ক্যাম্পকেন্দ্রিক সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলোর- হত্যা, সংঘর্ষ ও অপহরণের মতো এমন নিয়মিত অপরাধকান্ডে সাধারণ রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়।
অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে জনসাধারণের প্রতি অপহরণ থেকে বাঁচতে সর্তক থাকা সহ এই চক্রে জড়িতদের বিষয়ে জানা থাকলে ৯৯৯ এ তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।







