কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ডলফিন মোড়ের সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের রাস্তা দখল করে একপাশে গড়ে উঠছে ঝুপড়ি দোকান।
এ কাজের ফলে গাড়ি চলাচলের পথ সরু হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকেরা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র।
বেশ কিছুদিন ধরে দখল করে রাখলেও সেখানে সওজ বিভাগের কেউ যাননি। টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপদ বিভাগ পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে রাণীর ন্যায় সাজাতে ব্যস্ত হলেও নিয়মিত এই সৌন্দর্যকে ধ্বংস করছে এ ধরনের ঝুপড়ি দোকান। যেটি অসাধু ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলও হয়ে উঠেছে । এসব ঝুপড়ি দোকানে বসেই নানা ধরনের নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণ করে স্থানীয় ও বহিরাগত বকাটেরা।
যার ফলে নিত্যদিন ঘটছে নানা অপরাধ মূলক ঘটনা। কখনো হত্যা বা কখনো ছিনতাই এসব ডলফিন মোড়ের নিত্য দিনের চিত্র। এসব থেকে রেহাই পেতে পুলিশ প্রশাসনের তেমন কেনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা না গেলেও প্রায়ই অভিযোগ ও সমালোচনা পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেটি বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য অনেকের।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ডলফিন মোড়ের চারপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু টং( ঝুপড়ি) দোকান। এগুলোর কোনো ধরনের সরাসরি মালিকানাধীন না হয়েও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের রাস্তা দখল করেই গড়ে উঠেছে। যেটি সড়কের চারপাশের উন্নয়নকে হুমকিতে ফেলেছে এবং সৌন্দর্যবর্ধনকে ধ্বংস করছে বলে মতামত অনেক ব্যবসায়ীর।
এসময় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডলফিন মোড় সবচেয়ে পছন্দনীয় স্পট পর্যটন প্রেমীদের। যার ফলে সড়ক ও জনপদ বিভাগেরও সৌন্দর্যবর্ধনের কমতি নেই এই পয়েন্টকে ঘিরে।
তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের অদৃশ্যমান ক্ষমতা দিয়ে সড়ক বিভাগের জায়গাও দখলে নিয়ে টং(ঝুপড়ি) দোকান বানাচ্ছে। যেটি আশেপাশের সৌন্দর্যকে নষ্ট করবে এবং পরিবেশকেও হুমকির মধ্যে ফেলবে ।
সড়কের ফুটপাতের উপর দোকান করার ফলে অনেক যানজটের শিকার হচ্ছেন পর্যটক। পাশাপাশি ব্যবসার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই স্পট। দ্রুতই ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদর আহ্বান জানান এই ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা জানান, তাদের উচ্ছেদে চেষ্টা করলেও নানাভাবে এসব ব্যবসায়ী বেঁচে যান । প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব ঝুপড়িতে মাদকের ব্যবসা করছে। এসব মাদক বিক্রির তালিকায় প্রভাবশালীরা জড়িত আছে বলে জানান তিনি।
দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে আসার কারণেই গোটা এলাকা জুড়ে এখন মাদকে সয়লাব হয়ে উঠছে। তবে নির্দেশ পেলে আইনি কার্যক্রম তারা পরিচালনা করবেন বলেও জানান।
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল মাওলা (৪৮) বলেন, পর্যটন শহরের প্রধান সড়কের এই দুরবস্থা দেখে যে–কেউ হতাশ না হয়ে পারবেন না। এখানকার জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আর রাজনৈতিক দলের নেতাদের রুচিবোধ নিয়ে নাগরিকেরা প্রশ্ন তুলতে পারেন।
সড়ক ও জনপদ( সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের পর তাঁরা জানান, সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







