প্রতারণার মাধ্যমে লামা পৌর সভার সম্পদ জবর দখল করে রাখা ও মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন লামা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম। (১০ নভেম্বর) বিকেল তিনটায় লামা প্রেসক্লাব হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেয়র।
সম্মেলনে লামা পৌর মেয়র বলেন, “লামা পৌরসভার মালিকানধীন ১নং ওয়ার্ডের চাম্পাতলীস্থ কিছু জায়গা জবর দখল এবং গত কয়েকদিন এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা দিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। লামা পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গাটি দখল করে রাখা এবং সেখানে মুরুং ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল নির্মান করার মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করার হীন চেষ্টার বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বলা হয় “আকতার উদ্দিন তপন, পিতাঃ আলতাফ উদ্দিন, চাম্পাতলী, লামা, বান্দরবান-কর্তৃক লামা পৌরসভার মালিকানাধীন (গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে হস্তান্তরিত) পুরাতন ১টি ভবন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনে এতদ বিষয়ে লামা পৌরসভা কার্যালয়ের নথিতে রক্ষিত কয়েকটি প্রমাণ তুলে ধরেন মেয়র।
লামা পৌরসভা কার্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্যসমূহ যাচায়ে দেখা যায়, ভবন বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কোন আবেদন নেই শিক্ষক তপনের। এমনকি ছায়াকপিও নেই নথিপত্রে। শুধুমাত্র ১ম পৌর পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মেয়র তাজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত মাসিক ভাড়া চুক্তিপত্রের ছায়াকপি রয়েছে। চুক্তিপত্রের তারিখঃ ০১-১১-২০০৯ ইং। লামা পৌরসভা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিকট জানতে চাওয়া হলে জানা যায়, চুক্তিপত্রটি দাপ্তরিকভাবে সম্পাদন করা হয়নি।
বরং আকতার উদ্দিন তপন ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের সাথে ব্যক্তিগতভাবে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে বিধায় চুক্তিপত্রের মূল কপি অত্র কার্যালয়ে নেই। পরবর্তীতে চুক্তিপত্রের ১টি ছায়াকপি তপন কর্তৃক নিজ থেকে পৌর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে চুক্তিপত্রে উল্লেখিত সেলামীর দুই লক্ষ টাকা লামা পৌরসভার কোন হিসাবে জমা করা হয়নি এবং মেয়রের মৌখিক নির্দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঝে মাঝে মাসিক ভাড়া নিতে বাধ্যহয়েছিলেন।
২য় পৌর পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণের পর ২৪-১২-২০১২ খ্রিঃ অনুষ্ঠিত ১৭ তম মাসিক সাধারণ সভায় তৎকালীন ০১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মোঃ আবু তাহের কর্তৃক এতদবিষয়ে আপত্তি উত্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, ভবন বরাদ্দ ও সংস্কার বিষয়ে কোন দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়নি। বিধিমতে ভবন সংস্কারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কর্তৃক নকশা ও প্রাক্কলন প্রণয়ন পূর্বক মাসিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হয়।
কিন্তু আকতার উদ্দিন তপন অবৈধ ভাবে কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি সংস্কার করে পরবর্তীতে কয়েক লক্ষ টাকা জামানত দাবি করেছেন। ফলশ্রুতিতে বেদখল হয়ে যাওয়া ভবনটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উক্ত মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল ।
সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২৯-০৭-২০১৩ খ্রিঃ পৌরসভার মালিকানাধীন পুরাতন ভবনের অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষকে অবমূল্যান করে ভবনের দখল ছেড়ে দেননি আক্তার উদ্দিন। এমনকি এতদবিষয়ে পৌরসভায় কোন লিখিত জবাব দাখিল করেননি সে। আকতার উদ্দিন তপন পরবর্তীতে পরিত্যক্ত বাসা পুনরায় স্থায়ী বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
আবেদন পত্রটি পৌর কার্যালয়ের গ্রহণ নং: ১৯৯, তরিখঃ ১০-০৮-২০১৪ খ্রিঃ পৌরসভা কার্যালয়ে এ বিষয়ে অবগত কর্মচারীরা জানান, আবেদনটি তৎকালীন মেয়র মোঃ আমির হোসেন কর্তৃক সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়ে স্বাক্ষরের পর তৎক্ষণাৎ মেয়রের মৌখিক নির্দেশে আবেদনটি আকতার উদ্দিন তপন ফেরত নিয়ে যান। ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার ফলে জানমালের ঝুকি থাকায় এবং আবেদনকারী কর্তৃক আবেদন ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সভায় কোন আলোচনা হয়নি।
৩য় পৌর পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণের পর আকতার উদ্দিন তপন কর্তৃক পৌরসভার মালিকানাধীন পরিত্যক্ত ভবন অবৈধভাবে দখল করে রাখার বিষয়টি অবগত হলে জনস্বার্থে লামা পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গা ও ভবনের অবৈধ দখল মুক্ত করার জন্য পূর্ববর্তী মেয়রের পত্র সমূহ অনুস্মরণ পূর্বক, বিধি মোতাবেক লামা পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গা ও ভবনের অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য আকতার উদ্দিন তপনকে ৩য় পৌর পরিষদ কর্তৃক চূড়ান্ত পত্র দেওয়া হয়েছিল। পত্র প্রাপ্তির পর তিনি ২য় পৌর পরিষদের মেয়রের সাথে সম্পাদিত চুক্তি পত্রের ছায়াকপি এবং পূর্বে ফেরত নেওয়া আবেদনের ছায়াকপি দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, লামা ত্রিশ ডে বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার উদ্দিন তপন, সরকার ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে হেয় করে রাস্তা ঘাটে উগ্র আচরণ তরে। সে বিগত দিনে অনেক গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করেছে।
বর্তমানে সে একটি মামলায় জেল হাজতে রয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহল বিশেষ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাচ্ছে। মেয়র আরো বলেন, “আমি জনগনদ্বারা নির্বাচিত মেয়র, তবে জনস্বার্থ রক্ষাসহ সরকারি সম্পদ রক্ষা করাও আমার নৈতিক দায়িত্ব।







