গত ৬বছর আগে মোবাইল ফোনে আসা একটি ভূল নাম্বারে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম। এর পরে পালিয়ে বিয়ে। তবে ভুয়া কাবিননামায় তাদের বিয়ে। গত ৯মাস আগে ভুয়া কাবিননামার বিষয়টি টের পান মেয়েটি। এনিয়ে তাদের মধ্যে কলহ প্রকট আকার ধারন করে। স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে মেয়েটি এখন অনশন করছে কথিত স্বামীর বাড়িতে।এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
মেয়ের স্বজনরা জানায়,গত ৬বছর আগে ২০১৬ সালে মোবাইল ফোনে আসা একটি ভুল নাম্বারে কথা বলতে গিয়ে পরিচয় হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশিখালী ইউনিয়নের ছামিরাপাড়া এলাকার মো.আলীর মেয়ে নুসরাতের (ছদ্মনাম) সাথে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মৌলারপাড়া এলাকার দুলামিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীনের। টানা ৪বছর প্রেম করে গত দুই বছর আগে পালিয়ে বিয়ে হয় প্রেমিক জুটির।
চট্টগ্রাম শহরের কালুরঘাট এলাকায় স্বমী স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় সংসার পাতেন তারা। মাঝে মধ্যে জয়নাল নিজের বাড়িতেও আসা যাওয়া করতেন। মগনামা জেটিঘাটে ভাইয়ের একটি ওয়ার্কশপ দোকানে কাজ করতেন। নিয়মিত ভরনপোষণও দিতেন জয়নাল। এভাবে সুখের দাম্পত্য জীবন চলে দু’জনের।
নুসরাত (ছদ্মনাম) বলেন,প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছি। ৯ মাস আগে একটি কাগজে দু’জনই স্বাক্ষর করেছি। জয়নাল বলেছে এটি কাবিননামার কাগজ।
পরে বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে তাকে কাবিননামা দেখাতে বললে সে নানা অজুহাত দেখিয়ে শঠামির আশ্রয় নেয়। পরে জেনেছি এটি কাবিননামা নয়। তার কথামতে পোশাক শিল্পে চাকুরী করেছি। আমাকে বিয়ের নামে প্রতারনা করে দীর্ঘ দু’বছর ধরে ধর্ষন করেছে। আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিবে বলে বাড়িতে চলে আসতে বলে।
তার কথায় সোমবার দুপুরে চলে আসছি। জয়নাল মুঠোফোন বন্ধ করে বাড়ি থেকে সটকে পড়ে। কোন ধরনের যোগাযোগও করছেনা। জয়নালের বাবা মা আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন নুসরাত।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোকতার আহমদ বলেন, বিয়ের দাবী নিয়ে কুতুবদিয়ার একটি মেয়ে জয়নালের বাড়িতে চলে আসছে। খবর পেয়ে আমি গ্রাম পুলিশ দিয়ে উদ্ধার করে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখেছি।
জয়নালের চাচা সাবেক ইউপি সদস্য নুর মুহাম্মদ বদসহ দু’পক্ষের স্বজনদের নিয়ে আগামি কয়েকদিনের মধ্যে বসে সমাধান করার আশ্বস্থ করা হয়েছে। তবে ছেলে পলাতক রয়েছে। মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
মগনামা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও জয়নালের চাচা নুর মুহাম্মদ বদ বলেন,ইউপি সদস্য মোকতার আহমদসহ উভয় পক্ষের সাথে বৈঠকে বসেছিলাম। প্রেম কিংবা বিয়ের মেয়ে উপযুক্ত প্রমান দেখাতে পারলে অবশ্যই তাকে বিয়ে করতে হবে। সকলের মা বোন আছে। বড় ভাই দুলামিয়াকেও বলেছি ছেলেকে আগামি পাঁচ দিনের মধ্যে হাজির করাতে।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ফরহাদ আলী বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। ঘটনা যেহেতু চট্টগ্রামে তাকে সেখানেই আইনের আশ্রয় নিতে হবে। ##







