কক্সবাজারের পেকুয়ার চৌমুহনী ষ্টেশনে তেলের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার ফুটো হয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেলো ৪টি দোকান। ওই সময় প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পেকুয়া ইউনিট।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনী বিসমিল্লাহ স্টোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশের ৩টি দোকান পুড়ে যায় এবং ১টি বসত বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালাতে থাকে। আগুনের ভয়াবহতায় দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্বিতা চাকমা পার্শ্ববর্তী চকরিয়া ও বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডেকে এনে প্রায় আড়াই ঘন্টার প্রচেষ্টায় রাত ৮টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দমকল বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিপিপি ও উপজেলার বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা এসে তাদের সহযোগিতা করেন।
জ্বলন্ত আগুনে বিসমিল্লাহ স্টোরের কর্মচারীসহ দোকানের এক ক্রেতা আগুনে পুড়ে আহত হয়।
আহতেরা হলেন, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারইয়্যাকাটা এলাকার মৃত সব্বির আহমদের ছেলে ও বিসমিল্লাহ স্টোরের কর্মচারী মোঃ বাদশা ও সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী মোহ হারুণের ছেলে মোঃ মিজবাহ। এছাড়াও ফায়ার ইউনিটের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আজিম জানান, বিসমিল্লাহ স্টোরে জ্বালানি তেল বিক্রির পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলাও বিক্রি করে থাকেন।
প্রতিদিনের ন্যায় ওইদিন তেলের দোকানে বিক্রিত গ্যাসের চুলায় অগ্নি সংযোগ করে পরীক্ষা করার সময় আগুনের সুত্রপাত হয়।
আগুনে পুঁড়ে আহত বাদশাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, হঠাৎ দোকান থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ২মিনিটেই দোকানের চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
চকরিয়া ও বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা না এলে সহসা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো না।
বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দিন জানান, তার কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী (ডি আই ডি) অতিশ চাকমা বলেন, পেকুয়া-চৌমুহনী বিসমিল্লাহ স্টোরের গ্যাসের চুলা বিক্রি করার সময় ক্রেতাকে পরীক্ষা করে দেখার সময় পাশে অকটেনের ড্রামে আগুন লেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আমরা খবর পেয়ে চকরিয়া, পেকুয়া ও বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ইউনিট একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে সরকার ও প্রশাসন রয়েছে। কিভাবে আগুন লেগেছে তা তদন্ত করা হবে। অবৈধভাবে কোন কারণে আগুন লাগে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







