কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের বৃহত্তর একটি অংশ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চকরিয়া-পেকূয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের একক নেতৃত্বে কাউন্সিলরের তালিকা করতে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতসহ নানা অভিযোগ এনে তা বর্জন করা হয়েছে। আগামিকাল শনিবার ওই সম্মেলন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১২ টার দিকে চকরিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে উপজেলা চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভার দু‘বারের মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম, মাতামুহুরী আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাউল হক, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসাইন, দফতর সম্পাদক আব্দুল জলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, আবছার উদ্দিন মাহমুদ ও মোজাফফর হোসেন পল্টু লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষনা দেন। একই সময়ে ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে
সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সম্মেলন বর্জনকারী সকল নেতৃবৃন্দের পক্ষে মুখপাত্র হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, দেশ ও জাতির সামনে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের অনিয়ম, অসাংগঠনিক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে চাই। আগামীকাল শনিবার চকরিয়া উপজেলা আওয়সমী লীগের সম্মেলন।
কিন্তু সম্মেলনকে সামনে রেখে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিভিন্ন ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খালি প্যাডে দস্তখত নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে কাউন্সিলর তালিকা করেন।
তিনি বলেন, নিজেকে জেতানুর জন্য ওই সাজানো মনগড়া কাউন্সিলর তালিকা অনুযায়ি সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন তিনি। তিনি বলেন- ‘আমরা এই নীল নকশার সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা করছি এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলর তালিকা করে নতুন সম্মেলনের দিন-তারিখ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে একাধারে সাধারণ সম্পাদক, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সংগঠনকে শক্ত ভীতের উপর দাঁড় করিয়য়েছি।
প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সমাপ্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিল তালিকা করার সাংগঠনিক নিয়ম রয়েছে, কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। কাউন্সিলর তালিকা তৈরির আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির মিটিং করা সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্ধিত সভা না করে তড়িঘড়ি করে কাউন্সিলর তালিকা তৈরী করেন এমপি জাফর।‘
তিনি জানান, ২০১২ সালে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যে কাউন্সিলর তালিকা সম্পন্ন হয়েছিল, তাদের অধিকাংশ কাউন্সিলর নাম এবারের কাউন্সিলর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যা সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদককে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংগঠনের খালি প্যাডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে নিজের ইচ্ছামতো নিজস্ব লোক দিয়ে কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টম্বর চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসাইনকে এমপি জাফর আলম নিজেই পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে।







