মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কক্সবাজার বাসীর জন্য হাজারো রকমের লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে।এর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ।
কলেজ টি প্রথমেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের একটি ভবন দিয়ে অস্থায়ী ভাবে যাত্রা শুরু করে।
মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস চাই আন্দোলনে কক্সবাজারবাসী হিসাবে তাদের আন্দোলনের সাথে আমি ছিলাম।
আন্দোলনের সফলতা স্বরূপ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলো।
মেডিক্যাল কলেজ স্থায়ী ক্যাম্পাস পেলো,শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল হলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কক্সবাজার বাসী ও ভবিষ্যৎ ডাক্তারদের জন্য এখনো কোন হাসপাতাল নির্মাণ কেন হলো না
মাথায় আসে না।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা এখনো কেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এসে ইন্টার্নি করবে? কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কতইবা ধারণ ক্ষমতা, কতইবা ল্যাবরেটরি সুবিধা অন্যান্য ডায়গনেস্টিক পরিক্ষা নীরিক্ষার সুবিধা আছে?
বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা সহ অর্ধ কোটি মানুষের বসবাস। তাহলে একটা সদর হাসপাতালের পক্ষে কক্সবাজার বাসীকে পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হবে কিভাবে।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সাথে একটা স্বয়ং সম্পূর্ণ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হলে কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ ভাবে ডাক্তার হয়ে পাশ করতে পারতো বলে কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজের শিক্ষকদের অভিমত।
বর্তমানে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ আছে বটে কিন্তু অনেক বিভাগের শিক্ষক পর্যন্ত নাই।
হাসপাতাল থাকলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হতো একিভাবে কক্সবাজারবাসী উপকৃত হতো।
একিভাবে কক্সবাজার চিকিৎসা ব্যয় অন্তত ৫০ ভাগ কমে যেতো।
দু’মাস আগে আমি আমার চিকিৎসার জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে যাই। ওখানে আমার শ্রদ্ধেয় চিকিৎসকরা আমার অনেক রকমের পরিক্ষা নীরিক্ষা করায়।
পিজি হাসপাতালে যেহেতু বাংলাদেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সেহেতু সারাদেশের উন্নত চিকিৎসা প্রত্যাশি রোগিরা পিজিতেই ভিড় করে।যেমন আমি কক্সবাজার থেকে চিকিৎসা নিতে গেছি।
প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ রোগীর চিকিৎসার পরিক্ষা – নীরিক্ষা প্রচুর জট লেগে যায়,এতে সময়ের অপচয় পাশাপাশি অর্থক টাকা খরচ।
তো আমার শ্রদ্ধেয় ডাক্তার আমাকে জানালেন এখানে আপনার রিপোর্ট পেতে অন্তত চার-পাঁচ দিন লেগে যাবে, রিপোর্টের জন্য অনর্থক ঢাকায় বসে বসে হোটেল ভাড়া,হোটেলে খাওয়ার টাকা খরচ না করে কক্সবাজারে চলে যান।ওখানে মেডিক্যাল কলেজ আছে ওখানে আজকে যদি আপনি পরিক্ষা করান এরপর দিন আপনি রিপোর্ট পেয়ে যাবেন।আর আমি তো এখানে প্রেসক্রিপশন লিখে দিছি,রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অন্যান্য চিকিৎসা গুলো করবেন।
ডাক্তারের কথায় আমি খুব খুশি ঢাকায় হোটেলে থাকতে হবে না খেতে হবে না।
ডাক্তারের সাথে এসব কথোপকথন চলছে তখন আমার মাথায় ই আসেনি কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সাথে হাসপাতাল নাই।মেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নি করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে।
কক্সবাজারে এসে যখন বুঝতে পারলাম কক্সবাজার সদর হাসপাতালই কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল হিসাবে এখনো বিদ্যমান।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এসে তারা আমাকে জানালো এ পরিক্ষা আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হবে না, আমাদের এই পরিক্ষা করানোর ল্যাবরেটরি নাই।কক্সবাজারের কোন প্রাইভেট ডায়গনেস্টিক সেন্টারে ও নাই।
কথায় আছে ভাঙা টেং সব সময় গর্তে পড়ে, বর্তমানে আমি নিজেও ভাঙা, বিএনপির অবদান হিসেবে।
হলো না।
ভাবছি কক্সবাজার জেলায় চারটি সংসদীয় আসনের চারজন মাননীয় এমপিই সরকার দলীয়, পাশাপাশি সংরক্ষিত মাননীয় নারী এমপিও কক্সবাজারের।
তাদের কারোই কোন মাথাব্যথা নেই নিজ জেলার মানুষের জন্য।তারা কখন শেখ হাসিনা করবেন, বলবেন সেই মুখের দিকে তাকিয়ে মুখিয়ে থাকে। এরপর শেখ হাসিনা উদ্যোগ নেয়ার পর তারা মঞ্চে গলাবাজি করে।
অথচ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয় তখন হাসপাতালের জন্য ও জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে আমি কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সাথে আলাপ করে যেটি বুঝলাম। কক্সবাজার কলেজের সাথে হাসপাতাল না থাকায় অনেক বিভাগ এখনো স্বয়ং সম্পূর্ণ নয়।
অনেক বিভাগে কোন অধ্যাপকই নেই মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া হয়।
আমার সেই একটা পরিক্ষার জন্য আমার গতকাল চট্টগ্রাম আসতে হলো।
সম্মানিত কক্সবাজার বাসী আসুন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে যাতে হাসপাতাল হয় এ-ই দাবি নিয়ে আমাদের আবারও মাঠে নামা উচিত।
আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা সংসদে শুধু এক মিনিট দাবি জানালে শিক্ষা স্বাস্থ্যবান্ধব সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহজেই সংসদ ও একনেকে পাশ করে নিবেন।
অথচ আমাদের এমপিরা এব্যাপারে আশ্চর্যজনক ভাবে নিরব।অথচ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকলে আমার একটি পরিক্ষা করানোর জন্য এতো টাকা খরচ করে চট্টগ্রাম আসতে হতো না। সকালে ভাত বা রুটি খেয়েই একটা ইজিবাইক ( টমটম) নিয়ে সর্বোচ্চ ১হাজার টাকা খরচে আমার পরিক্ষা ও রিপোর্ট নিয়ে সহজেই ডাক্তার দেখাতে পারতাম।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে এখনো ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের কোন ডাক্তার নাই, অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক দিয়ে নাকি ক্লাস করানো কলেজের শিক্ষার্থীদের। নাই হেপাটোলজি বিভাগের কোন অধ্যাপক। একজন আছেন তিনিও হজ্বের জন্য ছুটিতে।
শিক্ষার্থীরা আমাকে জানিয়েছেন শুধু একটা হাসপাতালের অভাবে কলেজের অনেক বিভাগের শিক্ষক নাই,হাসপাতাল থাকলে তারা প্রতিটি বিভাগে অন্তত পূর্ণ অধ্যাপক পেতেন। আমরাও চিকিৎসার সুফল ভোগ করতে পারতাম।
কক্সবাজারে স্বচিপ আছে,বিএমএ আছে তাদের কাজ কি আমি জানিনা।বিগত বিএমএ নির্বাচনে ডাক্তার পুচনূ ও ডাক্তার মাহবুবুর রহমান প্যানেলের পক্ষে আমি লেখালেখি করি।এবং কক্সবাজারের বিএমএ ভুক্ত ডাক্তারেরা এ-ই প্যানেল কে নির্বাচিত করলে কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আমার মরণোত্তর দেহ দান করবো বলেও ঘোষণা দিয়ে ছিলাম। তাঁহারা জিতেছেন কিন্তু মাহবুব ভাইয়ের সাথে অনেকবার নানা কারণে দেখা হয়েছে কিন্তু আমার দেহদান, চক্ষু দানের বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।ইতিমধ্যে পুচনু দাদা ও বদলি হয়ে গেছেন।
চট্টগ্রামে ঝামেলা মুক্ত পরিক্ষা করানোর জন্য সুপরামর্শ দিয়েছেন আমার অত্যন্ত প্রিয় কবি শ্রদ্ধেয় সুহৃদ ডাক্তার জিললুর রহমান। তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ভালোবাসা।
প্রিয় শ্রদ্ধেয় কক্সবাজারবাসী আবারও আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানাই,প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করি।ঐক্যবদ্ধ হই।অন্তত গরিব মেহনতী মানুষের পক্ষ হই।নিজেদের হালাল টাকা খরচ না করে ঘরে বসেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করি।







