কক্সবাজারের চকরিয়ায় মার্কেট গুলোতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চকরিয়া উপজেলা শহরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কক্সবাজার জেলার অন্যতম চকরিয়া চতুর্মুখী উপজেলা হওয়ায় এ শহরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকসমাগমও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার চকরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে ঈদগাঁহ ও রামু পেরিয়েই পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রবেশ করতে হয়।
চকরিয়া উপজেলার পূর্বে পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলা। পশ্চিমে মহেশখালী,পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলা অবস্থান হওয়ায় এ সব উপজেলার সংযোগস্থল চকরিয়া। পার্বাত্য লামা, আলীকদম উপজেলার অধিবাসী ও মহেশখালী, কুতুবদিয়া,পেকুয়ার বিশাল জনগোষ্ঠী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য এ চকরিয়া শহরে এসে থাকেন। চকরিয়া থানার রাস্তা মাথা থেকে পুরাতন এসআলম কাউন্টার পর্যন্ত রয়েছে ৭/৮ টি বিশাল মার্কেট।
এসব মার্কেটে পাইকারি ও খুচরা দোকানসহ পাঁচশতাধিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে রাতদিন ক্রেতাদের ভিড় জমে থাকে। চকরিয়া উপজেলা শহরের এ মার্কেটগুলোতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিএনজি চালিত অটো, টমটম, ম্যাজিক গাড়ীর মত ছোট যানে করে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত জমায়েত হয়। যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারীদের। জেলার অন্য উপজেলাসমূহ প্রধান সড়ক থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় এসব উপজেলায় সকল প্রকার ব্রান্ডের পণ্য সহজে পৌঁছায়না। বিশেষ করে পাহড়ী ও সমুদ্র উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে চকরিয়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে রকমারি পণ্যের দোকান ও অভিজাত শপিং মল। এছাড়াও খাদ্য দ্রব্যের পাইকারি ও খুচরা দোকান রয়েছে এখানে।
বিশেষ করে এ উপজেলায় রয়েছে গার্মেন্টস পণ্যের বিশাল মার্কেট। এ মার্কেটগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখন।
এ ব্যাপারে দৈনিক চকোরীকে চকরিয়া নিউ মার্কেট ব্যবসায়ীর সভাপতি ও সাংবাদিক আবদুল হামিদ জানান, চকরিয়া উপজেলা ব্যবসার জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় একটি জোন। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা ছাড়াও বিয়েসহ নানা ধরণের অনুষ্ঠানের জন্য পণ্য ক্রয়ের জন্য এ উপজেলা শহরে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের ভিড় থাকে। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের জোর নজরাদারীও বাড়ানো প্রয়োজন মনে করছি।
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটের কাপড়চোপড়ের দোকানগুলোতে ভীড়ও লক্ষ্য করার মত।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে ব্যাবসায়ীরা কম মূল্যের পণ্য বেশি মূল্য নিয়ে নিচ্ছে। গ্রামের সহজ সরল মানুষ পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম হাকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এতে সরল-সোজা গ্রামের হতদরিদ্রদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
দেখা গেছে,একই কোম্পানির একই মানের পণ্য বিক্রি হয় ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে। আবার নকল পণ্যেও বাজার সয়লাব। পণ্য ক্রয়ে ক্রেতারা ভুল করে নকল পণ্য অধিক মূল্যে কিনে নিচ্ছে। এতে ক্রেতারা ঠকে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রতি সচেতন মহলের জোর দাবী পণ্য সামগ্রীর মূল্য যেন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অসাধু কিছু শিল্পোদ্যোক্তা শিল্পোৎপাদনের মাধ্যমে নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব করায় খাঁটি পণ্য নির্বাচন করা সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ছে।







