কক্সবাজার জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরা। অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের জেলার শীর্ষ নেতারা।
গতকাল সোমবার বিকেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ মাঠে জহিরুল ইসলামের জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় জেলার কয়েক হাজার নেতা-কর্মী,এলাকাবাসী ও শ্রমিক সংগঠনের লোকজন অংশ নেন।
জানাজায় কেন্দ্রীয় আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদ পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবং জেলার তিন সাংসদ জাফর আলম, সাইমুম সারওয়ার কমল ও আশেক উল্লাহ রফিক অবিলম্বে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। জানাজা শেষে শহরের লিংক রোড় এলাকায় একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সারওয়ার কমল বলেন, প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। কে জড়িত তা প্রকাশ্য চলে এসেছে।
ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বা পাওয়া যায়নি এ কথা বলার সুযোগ নেই।
এদিকে গত সপ্তাহ-দেড়েক ধরে কক্সবাজারে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত রোববার দুপুরে জহিরুল ইসলাম সিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুদ্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্ধ নেতা-কমীরা বিক্ষোভ করে আসছেন।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় নিজ কার্যালয়ে শ্রমিকলীগ নেতা এবং তাঁর ছোট ভাই ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য কুদরত উল্লাহ সিকদার (৪৫) গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় দল ও পরিবার থেকে স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে কুদরত উল্লাহ সিকদারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লিয়াকত ও তার লোকজনকে দায়ী করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, দলের একটি পক্ষ লিয়াকতকে আসকারা দিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, এ ঘটনায় এখনও পরিবারের তরফ থেকে এজাহার দেওয়া হয়নি।
পুলিশ এর আগে গত ২৭ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে দূর্বৃত্তরা গুলি করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদারকে। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
এর জের ধরে কক্সবাজার শহর অচল করে রেখেছিলেন মেয়রের সমর্থকরা।এ ঘটনায়ও পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাম্প্রতিক শহরের সংঘটিত হত্যা ও রক্তপাত বন্ধে কঠোর হতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি গতকাল সোমবার কক্সবাজার শহরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তা চলতে দেওয়া যাবেনা।







