কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে রাতের আঁধারে শক্তিশালী স্কেভেটর গাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি লুটের কারবারে মেতে ছিলেন স্থানীয় একটি দাপুটে চক্র। অবশ্য জড়িত চক্রের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিদিন গভীর রাতে শুরু করতেন পাহাড় কাটা ও মাটি পাচারের কর্মযঞ্জ।
এভাবে বেশ কদিন পাহাড় কাটা চলার পর মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি গোপনে জানতে পারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন এলাকায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.ফখরুল ইসলাম চকরিয়া থানার পুলিশ ও আনসার টিমের সহায়তায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পাহাড় কাটার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করে চকরিয়া থানায় সৌপদ্দ এবং একটি স্কেভেটর ও দুটি ট্রাক (ডাম্পার) জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকালে আটককৃত তিনজন যথাক্রমে মো.ইয়াছিন, মো.মিজান ও শেফায়েতকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও মো.ফখরুল ইসলাম।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ফখরুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে একটি চক্র অবৈধভাবে পাহাড় কাটছিলেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর জানতে পেরে রাতেই সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করি।
অভিযানকালে একটি শক্তিশালী স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে পরিবেশ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান এবং স্কেভেটর ও দুটি ট্রাক (ডাম্পার) জব্দ করে থানায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন থেকে চকরিয়া উপজেলার ভেতরে যারা অবৈধভাবে পাহাড়-টিলা কাটবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পাহাড় কাটার সময় আটক তিনজনকে আদালত কতৃক কারাদণ্ডাদেশ দেয়ার পর গতকাল সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন কতৃক আটক তিনজনই পরিবহন শ্রমিক। মুলত পাহাড়ের মালিক থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাবার চুক্তিতে বেশকিছু দিন ধরে এই পাহাড়টি কেটে নিচ্ছিলেন হারবাং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চক্র। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হারবাং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
চকো/জে







