চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার হারবাং বনবিটের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে লুটের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি দাপটশালী চক্র দিনে বাগানের গাছ কেটে রাতে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত একমাস ধরে বনায়নের গাছ কেটে লুটের কারবার অব্যাহত থাকায় হারবাং বনবিটের ২০১৩-১৪ সালের সামাজিক বনায়নের বাগান ইতোমধ্যে বিরানভূমিতে পরিণত হতে চলছে।
এ অবস্থায় বুধবার রাতে বাগানের উপকারভোগী লোকজন পাহারা বসিয়ে গাড়িতে করে পাচারকালে বেশ কিছু কাটা গাছ উদ্ধার করেছে। পরে এসব কাটা গাছ স্থানীয় হারবাং বনবিটে হস্তান্তর করেছেন।
স্থানীয় সামাজিক বনায়নের অংশিদার উপকারভোগী লোকজন জানান, গত একমাস ধরে স্থানীয় মোহাম্মদ শফি, আবদুল মালেক ও আবদুস শুক্কুর এর নেতৃত্বে একটি দাপটশালী চক্র হারবাং বনবিটের ২০১৩-১৪ সালের সামাজিক বনায়নের বাগানে হানা দিয়ে বনায়নের গাছ কেটে লুটের মহোৎসব শুরু করে। জড়িতরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বাগানের অংশিদার গরীব উপকারভোগীরা তাদেরকে বাঁধা দিতে সাহস করেনি।
পক্ষান্তরে বিষয়টি স্থানীয় বনকর্মীদের জানালেও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এই অবস্থায় সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি বুধবার রাতে অনেকটা নিরুপায় হয়ে বাগানের উপকারভোগী লোকজন জড়ো হয়ে গাড়িতে করে পাচারকালে বেশ কিছু কাটা গাছ উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি বাগানের উপকারভোগী লোকজন হারবাং বনবিটের বিট কর্মকর্তা আবু জাকারিয়াকে জানালে ওই রাতে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওইসময় উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে গাছ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে উদ্ধার করা কাটা গাছ সমুহ বনবিট অফিসে নিয়ে যান বিট অফিসার আবু জাকারিয়া।
জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার হারবাং বনবিটের বনবিট কর্মকর্তা আবু জাকারিয়া। তিনি বলেন, মাত্র দুইমাস হলো হারবাং বনবিটে পোস্টিং নিয়েছি। এরইমধ্যে গত বুধবার রাতে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়ে যাবার খবর শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে উপকারভোগী লোকজনের সহায়তায় বেশ কিছু কাটা গাছ উদ্ধার করেছি৷
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারী চক্রের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। যাছাই বাছাই শেষে আজকালের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।
চকো/জে







