চলতি বোরো মৌসুমে বোরোধান চাষাবাদ নিশ্চিতে অবশেষে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে ফুলানো হয়েছে দুইটি রাবার ড্যাম। মৌসুমের শুরুতে যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে নদীর উজান থেকে নেমে আসা মিঠাপানির উৎস ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় বোরোধান চাষাবাদে সেচ সুবিধার অনিশ্চিয়তা কেটে গেছে। নিরবিচ্ছিন্ন সেচ সুবিধায় চাষাবাদ নিশ্চিত হওয়ায় খুশি লক্ষাধিক কৃষক। এর সুফল হিসেবে এ বছর চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখার সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফুল ইসলাম মাতামুহুরী নদীতে দুইটি রাবার ড্যাম যথাসময়ে ফুলানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) উপস্থিতিতে গত ২৯ ডিসেম্বর মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা রামপুর ও বাঘগুজারা পয়েন্টের দুইটি রাবার ড্যাম ফুলানোর মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকানো হয়েছে। এখন নদীর তীরের কৃষকেরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে চাষাবাদে সেচ (পানি) সুবিধা নিতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চকরিয়া উপজেলাকে সবুজ বিপ্লবের আওতায় আনতে সর্বপ্রথম মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে অস্থায়ী ভিত্তিতে দুইটি ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরই প্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ মন্ত্রাণালয়ের বরাদ্দের বিপরীতে প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে নদীর বাঘগুজারা ও রামপুর পালাকাটা পয়েন্টে দুইটি অস্থায়ী মাটির বাঁধ (ক্রসবাঁধ) তৈরি করে মিঠাপানি আটকিয়ে অবিভক্ত চকরিয়া (পেকুয়াসহ) উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করে আসছিলেন। যা ২০০৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, প্রতিবছর মাতামুহুরী নদীতে দুইটি অস্থায়ী ক্রসবাঁধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় নদীর দুই পয়েন্টেই স্থায়ীভাবে রাবার ড্যাম স্থাপনের উদ্যোগ নেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরই আলোকে ২০০৯ সালে মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ী রাবার ড্যাম দুইটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেন। মুলত ২০০৯ সালের পর থেকে স্থায়ী রাবার ড্যামের মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকিয়ে সেচ সুবিধা নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন চাষাবাদ করে আসছেন চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার কৃষকরা।
পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফুর ইসলাম বলেন, প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত কল্পে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ক্রমে রাবার ড্যাম দুইটি ফুলানো হয়। অনুরূপভাবে এবছরও চাষাবাদের শুরুতে কোন ধরণের ক্রটি ছাড়াই নদীর দুই পয়েন্টে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুইটি ফুলানো সম্ভব হয়েছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম নাছিম হোসেন বলেছেন, রাবার ড্যাম ফুলানোর পর কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। কৃষকরা নদী থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিয়ে চাষাবাদ করা শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে যথাসময়ে নদীর দুইটি রাবার ড্যাম ফুলানো সম্ভব হওয়ায় চাষাবাদে সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা কেটে গেছে। এতে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি নিয়ে চকরিয়া উপজেলায় ৪৪ হাজার পাঁচশত একর (১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর) ও পাশের পেকুয়া উপজেলার ১৫ হাজার একর (৬ হাজর হেক্টর) সহ মোট ৬০ হাজার একর জমিতে এবছর বোরোধান রোপনে নেমেছেন কৃষকেরা।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাতামুহুরী নদীর দুটি রাবার ড্যাম ফুলানোর জন্য আহবান জানান। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে নদীর পালাকাটা রামপুরা এবং বাঘগুজারা পয়েন্টের দুইটি রাবার ড্যাম ফুলিয়ে দিয়েছি।
তিনি বলেন, যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকিয়ে চাষাবাদে পানি সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এখন কৃষকদের অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।
চকো/জে।







