১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব.সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক এর সৌজন্যে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার৷ বিকালে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ স্কুল মিলনায়তনে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আয়োজনে এ সংর্বধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চকরিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এম সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ওয়াকার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম, পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ছাবের আহমদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে চকরিয়া ও পেকুয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি মেজর অব. সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক বলেন,
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যুদ্ধের ময়দানে যে সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে আমি তাদেরকে মৃত বলিও না। তারা মৃত নয় তারা জীবিত। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাঙালি জাতির মর্যাদা ও দেশের মানচিত্রের অধিকার রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তারা শহীদ হয়েছেন। নিশ্চয় তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন।
পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। সেই আলোকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদেরকে শহীদের মর্যাদা ও জান্নাত দান করবেন আমরা এটাই বিশ্বাস করি।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম মহান বিজয় দিবসের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন গেরিলা সম্মুখযোদ্ধা ছিলাম। তাই আমি বুঝি সেইদিন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার মর্যাদা নিশ্চিত করেছেন।
দেশের কল্যাণে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যার আহবানে সাড়া দিয়ে সেইদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
আমি আজকের সভা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি, সেক্টর কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডার, গেরিলা সেকশন কমান্ডার, ব্যাটেলিয়ান কমান্ডার, ফোর্স কমান্ডারসহ সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকাকে সমুন্নত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে বলেন, শুনেছি, এখানে এতদিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত হয়েছে।
স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকলেও চকরিয়া পেকুয়ার মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন ঠিকানাবিহীন। আমি কথা দিচ্ছি, চকরিয়া পেকুয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স স্থাপিত হবে, এইজন্য সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা গড়তে আমি সবার সহযোগিতা চাই।







