গত ৪ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সাতদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে লোকসনের শিকার হয়েছেন ২২ হাজার ৩৮৪ কৃষক। এতে কৃষকদের ৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নাছিম হোসেন।
বন্যা পরবর্তী কৃষি ভান্ডার খ্যাত চকরিয়া উপজেলার নাজুক অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক ড.অরবিন্দ রায়। তিনি ১৬ আগস্ট চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চকরিয়া উপজেলার ৮ হাজার ৩৪০ কৃষকের ৫১২ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৩ হাজার ৮৬০ কৃষকের ২ হাজার ২৪৫ হেক্টর আমনের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ হাজার ৫৪০ কৃষকের ৬০২ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। ৪ হাজার ৯৮৪ কৃষকের ৭১২ হেক্টর জমির আউশ ধান নষ্ট হয়েছে। ১৮০ কৃষকের ২০ হেক্টর জমির পেঁপে এবং ২৪০ কৃষকের ৩৫ হেক্টর ফুলচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোঃ কবির হোসেন বলেন, সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় জেলার ৯ উপজেলায় কমবেশি চাষাবাদ ও শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চকরিয়া উপজেলার কৃষকরা। এসব স্থানে বন্যার পানি কয়েকদিন স্থায়ী থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ ফসল পঁচে গেছে।
জেলার শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত চকরিয়া উপজেলা মাতামুহুরি নদীর পাড় ঘেঁষে শত শত হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষ হয়। ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সব শাকসবজি পঁচে গেছে।
উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মাতামুহুরি তীরের কৃষক ফজল আহমেদ বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে পলিথিনে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চারা চাষ করেছি। চার দিন এসব চারা পানির নিচে থাকার পর সেগুলো নষ্ট হয়েছে। মাঠে অন্যান্য কৃষকদের কাঁকরোল,পটল,চিচিঙ্গা,বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও শাক ছিল। যার সবই নষ্ট হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নাসিম হোসেন বলেন , ১টি পৌরসভা এবং ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে চকরিয়া উপজেলার অবস্থান। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়েছে ১৫০০ মে:টন গোলাজাত ফসল। পাশাপাশি ডিলারের গুদামে রক্ষিত ইউরিয়া ১১৮ টন, টিএসপি ৪০ টন,এমওপি ২০টন,ডিএপি ৮৪ টন পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখনও পানির নিচে ডুবে আছে প্রচুর পরিমাণ সবজি ক্ষেত ও আমনের বীজতলা।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ভান্ডার পরিদর্শন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায়। তিনি বলেন, বন্যার তাণ্ডবে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন ও সবজির বীজ বিনামূল্যে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।







