কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলার পেকুয়া সদর, শিলথালী, বারবাকিয়া ও টেটংয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। পেকুয়া সদরে প্রায় ১৫ হাজার বসতঘর পানিতে নিমজ্জিত।

সদরের বেশীর গ্রামীণ অবকাঠামো, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী অফিস, দোকানপাট পানির নিচে। বেড়িবাঁধের ভাঙন গুলো দিয়ে এ ইউনিয়নে এখনও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ঢোকা অব্যাত আছে। পেকুয়া সদরের আনর আলী মাতব্বর পাড়ায় সাপের কামডে নাছির উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী মারা গেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়; বুধবার সকালেও পূর্ব মেহের নামা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া ৩টি অংশ দিয়ে তীব্র বেগে মাতামুহুরী নদী থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকছে।

চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী আঞ্চলিক মহা সড়কটি পেকুয়া সদর অংশে প্রায় ৩কিলোমিটার এলাকা ২/৩ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পেকুয়া সদরে বন্যার পানি বেশীর ভাগ ঘরের চালা পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
বাণিজ্যিক কেন্দ্র পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, পেকুয়া চৌমুহনী ও গুরামিয়া বাজারের বেশীরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার ঘর এভাবে গত ৩দিন ধরে বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে। বেশীরভাগ মানুষ ঘরের মধ্যেই আটকা পড়েছে। বন্যা কবলিত গ্রামীন অবকাঠামো গুলো ৬/৭ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকায় বানভাসিরা কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিতে পারছেন না।
কেউ কেউ বাইরের এলাকায় আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে। হাঁসমুরগি ও গবাদি পশুগুলো ঘরের মধ্যেই ঠাই পেয়েছে। অনেকে সড়ক বা উচু কোন স্থানে নিয়ে গেছে। বহু মানুষ ঘরের ভেতরে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন। কোন ঘরের চুলোতে আগুন জ¦লছে না। এতে খাওয়া দাওয়ার সমস্যায় পড়েছে এলাকার মানুষ। টিউবওয়েল গুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বেশীরভাগ গৃহস্থ তাদের ঘরে মজুদ রাখা ধান চাল উচু জায়গায় নিয়ে যেতে পারেনি। এতে বন্যার পানিতে সব ভিজে গেছে। অনেকে রান্না করতে না পেরে অনাহারে আছে বলে জানিয়েছেন। মাতামুহুরী নদী পানি পেকুয়া সদর অংশে বিপদসীমার উপরে বেড়িবাঁধের উপরের লেবেল বরাবর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা পূর্বিতা চাকমা বলেছেন, বন্যার পানি অপসারণের জন্য পেকুয়া সদরের সমুদ্র চ্যানেলের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধের ৩টি স্থানে কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে বন্যার পানি দ্রুত বের হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষে ত্রাণ বা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেছেন; পেকুয়া সদর ইউনিয়নটিকে মাতামুহুরী নদী চারিদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধগুলো অনেক পুরনো, নিকট অতীতে সংস্থারও হয়নি। এ কারণে অনেক আঘে থেকে এই ইউনিয়নটি বন্যার ঝুকিতে আছে। পেকুয়ায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরী।
বেড়িবাঁধ গুলো জরুরী ভিত্তিতে উচু করে পুনঃনির্মাণ করা না হলে মানুষ প্রতি বছর বন্যার শিকার হবে।







