কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সরকারি চাকুরী বিধি লঙ্গন করে চুড়ান্ত বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে ওই শিক্ষক ও তার পরিবার।
জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারকে গত ৪ অক্টোবর ২০২২ ইংরেজী তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ৪১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ তুলে কোন কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে সভাপতি মোহাম্মদ শাহিন মুরাদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
একইভাবে ৫০ দিনের মাথায় আবারো একটি পত্রের মাধমে চুড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়। বিধি অনুযায়ী কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করার কোন নিয়ম নেই। বরখাস্তের পর থেকে খোরপোষ ও বেতন প্রদান করা হয়নি। বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে চুড়ান্ত বরখাস্তের কোন বিধি নেই।
এছাড়া বিগত ১০ মাস যাবত কোন বেতন প্রদান করা হয়নি।
প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, আমার আমলে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি। যথাযথ নিয়ম মেনে ও ক্রয় কমিটির সাথে শলাপরামর্শ করে স্কুলের উন্নয়ন করা হয়েছে।
একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ এনে বেসরকারী শিক্ষক চাকুরিবিধি না মেনে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার বেঠক হলেও পরিচালনা কমিটির লোকজন আমার বিরুদ্ধে যথাযথ কোন অভিযোগ দাখিল করতে পারেনি।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ এনে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন স্কুল কমিটির সভাপতি শাহীন মুরাদ। মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার জেলা সিআইডি এই অভিযোগ তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ মাস যাবত আমি বেতন উত্তোলন করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমি উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুবিচার কামনা করছি।
জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালান কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহিন মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দশ বছর চাকুরী জীবনে ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে অডিট রিপোর্টের মাধমে ৪১ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
একইভাবে তিনি আমার স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অভিজ্ঞতার সনদ প্রদান করেছেন অন্যত্র চাকুরীর আবেদনে। এ নিয়ে আরো একটি মামলা করা হয়েছে।







