এক সময় মহেশখালীর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ঘুটঘুটে রাতের অন্ধকার নিবারণের প্রধান উপকরণ ছিল কেরোসিন তেলের বাতি চেরাগ। সেই কেরোসিন শিখার চেরাগ বাতির অহংকার বিদ্যুতের ছোঁয়ায় আজ ভেঙ্গে চুরমার। এখন শুধুই স্মৃতি। কালের আবর্তে ইতিহাস ঐতিহ্যের স্রোতধারায় মরতে বসেছে ওই চেরাগ বাতি। আর এ শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররাও এখন এ পেশা ছাড়তে শুরু করেছে।

আধুনিকতার পদভারে বিজলি বাতির দাপটে বর্তমান সময়ে কেরোসিন যুগের বিলুপ্তিতে গ্রামীণ ঐতিহ্য চেরাগ বাতির প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে। এইতো কয়েক বছর আগের কথা সন্ধ্যা হলেই গ্রাম ও গ্রাম্য বাজারে বুম্বা চেরাগের মিটিমিটি আলোয় চেনা যেত হাট-বাজারসহ গ্রামের সেই চিরচেনা রূপ। বর্তমানে পাল্টে যাওয়া এক সভ্যতায় বৈদ্যুতিক বাতির আলোর ঝলকানিতে চেরাগ বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বাহারী বৈদ্যুতিক বাল্ব,সোলার, আইপিএস, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরো কত কি। ফলে মহেশখালীর ৯ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ৪ লক্ষ জনপদে আর চোখে পড়ে না গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কেরোসিন শিখার এই নিদর্শটি।

বর্তমানে এটি শুধুই স্মৃতি। এ যুগের গ্রাম গঞ্জের ছেলে মেয়েদের কাছে চেরাগ বাতির স্মৃতি এখন রুপকথার গল্প। ইদানীং কালে গ্রামের দাদী তার নাতনিকে চেরাগ বাতির গল্প শোনাতেও লক্ষ করা গেছে। বর্তমানে এই নিদর্শনটির কদর অন্য কারো কাছে না থাকলেও প্রযুক্তির এই যুগেও মহেশখালী উপজেলার,বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গপাড়ার পাহাড়ী গ্রামের রহমত উল্লার বাড়িতে দেখা মেলে চেরাগ বাতির’। আজও তার বাড়িতে নেই বৈদ্যুতিক সংযোগ। দুই কন্যা ও চার সন্তানের জনক রহমত উল্লার বাড়িতে রান্না,খাওয়া ও সন্তানদের লেখাপড়ার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও হচ্ছে কেরোসিনের চেরাগ বাতিতে।
বর্তমানে গ্রামের অনেক নিম্নআয়ের সৌখিন
মানুষ সযত্নে বিভিন্ন রকমের চেরাগ বাতি শখের বসে সংরক্ষণ করেছেন নিদর্শন হিসেবে।
তৎকালীন সময়ে ছোট বড় কয়েক’ধরণের চেরাগ বাতির ব্যবহার ছিল। মাটি, লোহা, কাচ, টিন, পিতল আর বড় ছিল টিনের তৈরি ভুটুয়া।ছোট ও বড় চেরাগ বাতি থেকে বেশি আলো পাওয়ার জন্য কাঠ,লোহা বা বাঁশের তৈরি স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হতো।
কিন্তুু বর্তমান সময়ে অনেকটা বিদ্যুৎতায়িত হওয়ায় আবহমান গ্রাম বাংলার আপামর জনসাধারণের অন্ধকারে আলো দেওয়া চেরাগ বাতি বিলুপ্তির পথে। আর নতুন প্রজন্মকে দেখতে হলে যেতে হবে জাদুঘরে।
বিঃ- চেরাগ শব্দটি, মহেশখালীতে যারা কারিগর আছেন তাদের কাছ থেকে নেওয়া। শুদ্ধ ভাষায় ল্যাম্প বা কুপি বাতি।







